বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দ্বীপ দেশটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোয়ারেন্টাইন বিধিমালার কারণেই তৈরি হয়েছে এই অনিশ্চয়তা। জাতীয় দলকে শ্রীলঙ্কায় পাঠাতে অবশ্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। লঙ্কান বোর্ডের সঙ্গে আলোচনাও চলছে। তবে জাতীয় দলের সঙ্গে এএইচপি দলকেও শ্রীলঙ্কায় পাঠানোর যে পরিকল্পনা ছিল বিসিবির, সেই ভাবনা থেকে এখন সরে আসতে পারে সংস্থাটি।
বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি বলেছেন, এইচপি দলের শ্রীলঙ্কা সফরের সম্ভাবনা ক্ষীণ। অন্যদিকে এইচপির প্রধান নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের কথাতেও উঠে এসেছে একই চিত্র।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টাইগারদের তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি শুরু হওয়ার কথা অক্টোবরে। তার আগে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকেই টাইগারদের পাড়ি দেওয়ার কথা দ্বীপ দেশটিতে।
নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার জন্য জাতীয় দল ও এইচপি মিলে বড় একটি বহরই পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল বিসিবির। কিন্তু শ্রীলঙ্কা প্রস্তাব পাঠিয়েছে কেবল ৩০ জনের দল নিয়ে সফরের। তাতেই এইচপি টিম নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে বিসিবিকে।
রবিবার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে বিসিবির তিন পরিচালক- ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান আকরাম খান, এইচপি প্রধান নাঈমুর রহমান, গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান খালেদ মাহমুদ ও প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন বৈঠকে বসেছিলেন।
বৈঠকের পর আকরাম বলেন, ‘ওরা প্রস্তাব দিয়েছে মাত্র ৩০ জনের দল পাঠাতে হবে। আমাদের জাতীয় দলের বহরই তো ৩০ জনের বেশি হওয়ার কথা, সাপোর্ট স্টাফ সবাইকে মিলিয়ে। এরপর এইচপি তো আছেই। এই অবস্থায় আসলে এইচপি দলের সফর কঠিনই। টেস্ট ম্যাচগুলো যেহেতু এফটিপির ও আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ, আমরা সেটিকেই প্রাধান্য দিচ্ছি।’
তিনি যোগ করেন, ‘আগামীকাল আবার সভা করে আমরা আমাদের প্রস্তাবনা পাঠাব শ্রীলঙ্কায়। তবে এই মুহূর্তে এইচপি দলের সফরের সম্ভাবনা ক্ষীণ।’
নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের কণ্ঠেও মিলেছে একই বার্তা, ‘এইচপির সফরটা আলাদা, অগ্রাধিকার পাবে জাতীয় দলের সফর। এইচপির ক্যাম্প আমরা এখন করতে পারব, পরেও করতে পারব। কিন্তু জাতীয় দলের যে সফর, সেটা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। আমরা যদি এই উইন্ডো মিস করি, তাহলে নতুন উইন্ডো বা স্লট বের করা কঠিন হবে। সুতরাং জাতীয় দলের টেস্ট সিরিজটা অগ্রাধিকার পাবে।’
বিসিবি চেয়েছিল জাতীয় দল ও এইচপি দলকে একসঙ্গে শ্রীলঙ্কায় পাঠিয়ে দুই-তিন দিন পরই অনুশীলন শুরুর। কিন্তু শ্রীলঙ্কার ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্সির বিধিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছানোর পর বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন করতে হবে। এই সময়ে থাকতে হবে হোটেলবন্দী, করা যাবে না অনুশীলনও।
শ্রীলঙ্কার ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্সি ক্রিকেট শ্রীলঙ্কাকে (এসএলসি) বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেছে। তাতেই বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা সফর কঠিন হয়ে গেছে।
আগের দিন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন জানিয়েছিলেন, তারা কোয়ারেন্টাইনের সময় কমিয়ে আনতে আলোচনা করছেন শ্রীলঙ্কা বোর্ডের সঙ্গে। রবিবার পর্যন্ত অবশ্য কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি দুই বোর্ড।
