শূন্য হওয়া ৫ আসনের উপনির্বাচনে জয়ের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামতে চায় আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা। তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, উপনির্বাচনে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা ও ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় আওয়ামী লীগ কাজ করে যাবে। এ জন্য দলের পক্ষ থেকে ব্যতিক্রমী কিছু উদ্যোগও থাকবে।
ইতিমধ্যে ঢাকা-৫, পাবনা-৪ ও নওগাঁ-৬ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ৫ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, উপনির্বাচনগুলোতে ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করাই মূল লক্ষ্য। তা ছাড়া প্রচারণায় সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া, প্রার্থী ও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ভোটারদের দরজায় যাওয়া বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া নির্বাচনী এলাকাগুলোয় মিছিল-মিটিং করার পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় ছোট ছোট নির্বাচনী ক্যাম্প গড়ে তোলা হবে। তবে করোনাকালে এসব নির্বাচনের প্রচারে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধিও মানা হবে।
শূন্য আসনের উপনির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থীরাও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট আয়োজনে ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনটি আসনে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চান তারা। ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে প্রার্থী হিসেবে প্রয়োজনীয় সবকিছুই করবেন তারা।
আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেকোনো ভোট নিয়ে আওয়ামী লীগ সব সময়ই ‘সিরিয়াস’ থাকে। সব সময়ের মতো এবারও উপনির্বাচনগুলোয় বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। তাই প্রার্থী নির্বাচনে এবার গুরুত্ব দিয়েছে দলের মনোনয়ন বোর্ড। ইতিমধ্যে ঘোষিত তিনটি আসনেই নৌকার প্রার্থী বদলে দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো ঢাকা-৫, পাবনা-৪ ও নওগাঁ-৬। বাকি দুটি আসন সিরাজগঞ্জ-১ ও ঢাকা-১৮ আসনে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি। জানা গেছে, এ দুটির মধ্যে শুধু সিরাজগঞ্জেই প্রয়াত সাংসদের পরিবারের সদস্যের মধ্য থেকে একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। যাতে দলের নেতাকর্মী ও ভোটাররা চাঙা হয়ে ওঠেন সেই চিন্তা থেকে প্রার্থী বদল করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বিএনপি উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ায় শূন্য আসনের নির্বাচনগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে বলে মনে করেন। তারা মনে করছেন, বিএনপি সত্যিকার অর্থে নির্বাচনমুখী হবে এবং অতীতের মতো আচরণ থেকে এবার বিরত থাকবে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ উত্থাপন করে নির্বাচন থেকে শেষ সময়ে সরে যাওয়া বা ইস্যু বানানোর চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র যেন তারা করতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হবে। উপনির্বাচনগুলোয় বিএনপি থাকুক চান তারা। কিন্তু ইস্যু তৈরি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। সেদিকেও তীক্ষè দৃষ্টি থাকবে ক্ষমতাসীনদের। বিএনপি সুযোগ নিতে এসেছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময়ই নির্বাচন নিয়ে ‘সিরিয়াস’ থাকে। উপনির্বাচনেও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে নামা হবে। সবগুলো শূন্য আসনই তো আওয়ামী লীগের। সুতরাং উপনির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীই বিজয়ী হবেন। ফারুক খান বলেন, বিএনপি এই নির্বাচনগুলোতে অংশ নিচ্ছে জেনে আমরা খুশি হয়েছি। তবে তাদের কোনো ইস্যু তৈরি করার উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সেটা বিশেষ নজরে রাখা হবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কাছে নির্বাচন মানেই গুরুত্বের। একমাত্র আওয়ামী লীগই মনে করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের উত্তম পন্থা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এই নির্বাচনগুলো নিয়েও আওয়ামী লীগ সিরিয়াস। তাই নির্বাচন দেখভালের জন্য ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে কমিটি করা হয়েছে। তারা নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণা চালাবেন, কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ঘটাতে ভূমিকা রাখবেন।’ নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করব, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখার।’
হানিফ আরও বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক। তবে অতীতে নির্বাচনগুলো নিয়ে যে রকম আচরণ করেছে বিএনপি তা থেকে বিরত থাকবে আশা করছি। বিএনপি নির্বাচনের আগে সরে দাঁড়ানো অযথা অভিযোগ তোলা এসব না করে নির্বাচনী আচরণ করবে বলেও আশা করি। তাদের প্রতিও আমাদের নজর থাকবে। তারা আসলে নির্বাচন করতেই মাঠে থাকবে, না ষড়যন্ত্র করবে।’
