নারীসঙ্গের মন্ত্র বিয়ের প্রতিশ্রুতি

সহকারী কমিশনার শামীমের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:২৫ এএম

হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সাবেক সহকারী কমিশনার নাদির হোসেন শামীমের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে প্রতারণার অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের অফিসকক্ষে দিনভর তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত নাদির হোসেন শামীম ছাড়াও প্রতারণার শিকার দাবিদার তিন নারী উপস্থিত ছিলেন। নাদির হোসেন বর্তমানে যশোর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

শামীমের প্রতারণার শিকার বলে দাবিদার দুই নারীর মধ্যে এক শিক্ষিকা দেশ রূপান্তরকে জানান, গতকাল বেলা ১১টায় উপসচিব মো. জাহাঙ্গীর হোসেন তার কাছ থেকে শামীমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে মৌখিক বক্তব্য শোনেন। এরপর ওই বক্তব্য লিখিত আকারে গ্রহণ করেন। শামীমের সঙ্গে অন্তরঙ্গ ছবি এবং মেসেঞ্জারে দুজনের কথোপকথনের প্রিন্টকপিসহ বিভিন্ন আলামত সংযুক্ত করে দেন শিক্ষিকা। তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই শিক্ষিকার সামনেই শামীমকে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চান। শামীম অভিযোগকারী শিক্ষিকার সঙ্গে ‘প্রেম’ ও শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। বিয়ে না করার সম্পর্কে শামীম বলেন, কলেজে পড়াশোনার সময় ওই নারী রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন, একাধিক ছেলের সঙ্গে প্রেম ছিল। উপসচিব তখন শামীমের কাছে জানতে চান তার এসব কর্মকাণ্ডে সরকারি চাকরির নীতিমালা ভঙ্গ হয়েছে কি না? উত্তরে শামীম তার দোষ স্বীকার করেন। তবে শিক্ষিকা দেশ রূপান্তরকে জানান, তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এছাড়া শামীম ছাড়া আগে কোনো ছেলের সঙ্গেও তার প্রেমের সম্পর্কও ছিল না।

শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা আরেক তরুণীর (বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী) কাছ থেকেও মৌখিক এবং লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেছেন উপসচিব জাহাঙ্গীর হোসেন। ওই ছাত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শামীম বলেছেন আমি নাকি তাকে একতরফা ভালোবেসেছিলাম। শামীম বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার সঙ্গে যে বহুবার শারীরিক সম্পর্ক করেছেন তা অবলীলায় অস্বীকার করেছে।’ উপসচিবের কাছে তাদের প্রেমসংক্রান্ত বিষয়ে কিছু আলামত জমা দিয়েছেন বলেও জানান এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী।

এদিকে শিক্ষিকার সঙ্গে যাওয়া অন্য এক ছাত্রী জানান, শামীম তার সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে শামীম তাকে বিয়ে করেছেন জানানোর জন্য ওই শিক্ষিকার কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। যাতে ওই শিক্ষিকা শামীমের সঙ্গে সম্পর্ক ছেড়ে দেন। কিন্তু শামীম পরবর্তীকালে তাকে (ছাত্রী) বিয়ে না করে প্রতারণা করেছেন। তিনি শামীমের প্রতারণা সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগকারী দেশ রূপান্তরকে আরও জানান, গতকাল শামীম সচিবালয়ে তার নববিবাহিত স্ত্রীকে (সহকারী জজ) সঙ্গে নিয়ে যান। এ সময় ওই সহকারী জজকে সচিবালয়ের বিভিন্ন কক্ষে দৌড়ঝাঁপ করতে দেখেছেন তারা। উপসচিব ওই তিন নারীকে জানিয়েছেন, তিনি অভিযোগ শুনেছেন। এসব অভিযোগ আরও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাদির হোসেন শামীম ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার পশ্চিম শালীহর গ্রামের আবদুল কদ্দুসের ছেলে। গত শনিবার দেশ রূপান্তরে ‘নারীসঙ্গের মন্ত্র বিয়ের প্রতিশ্রুতি’ শিরোনামে তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত