বুড়িগঙ্গা দূষণ

রায় বাস্তবায়ন না করায় ওয়াসার এমডিকে সতর্ক করল হাইকোর্ট

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:২৫ এএম

বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষণ রোধে দেওয়া রায় ৯ বছরেও বাস্তবায়ন না করায় ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানকে সতর্ক করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এক মাসের মধ্যে আদালতে হাইকোর্টের ওই রায় বাস্তবায়নের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আমাতুল করিম এবং ওয়াসার এমডির পক্ষে ছিলেন উম্মে সালমা।

ঢাকার শ্যামপুরের শিল্প এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন শিল্পকারখানা থেকে বর্জ্য নিঃসরণে বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষণ রোধে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) ২০১০ সালে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। শুনানি নিয়ে ২০১১ সালে হাইকোর্ট এক রায়ে ওয়াসার এমডিকে ৬ মাসের মধ্যে বুড়িগঙ্গায় কারখানার বর্জ্য নিঃসরণ লাইন বন্ধের নির্দেশ দেয়। কিন্তু রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় একটি সম্পূরক আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান হাইকোর্টে হাজির হয়ে রায় বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দেন। গত ১৮ আগস্ট এবং ৭ সেপ্টেম্বর ওয়াসার পক্ষে দুটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হলেও রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় হাইকোর্ট তা গ্রহণ না করে সময় দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শুনানিতে ওয়াসার এমডির পক্ষে আরও একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হলে আদালত তা গ্রহণ না করে ওয়াসার এমডিকে সতর্ক করে।

শুনানিতে মনজিল মোরসেদ আদালতকে বলেন, ‘রায়ের পর ৯ বছর অতিক্রান্ত হলেও টালবাহানা করে রায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। যার কারণে বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষণ বন্ধ হচ্ছে না। ওয়াসা তাদের দায়িত্ব পালনে বারবার ব্যর্থ হয়েছে।’

এদিকে একই আদালতে ২০১৪ সালে দায়ের হওয়া আরেকটি রিটের আদেশে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, কেরানীগঞ্জ থানার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসিকে ২ সপ্তাহের মধ্যে বুড়িগঙ্গা নদীর দক্ষিণ পাশে নদী ও নদীতীরে ময়লা/আবর্জনা/বর্জ্য ফেলা ও স্তূপ করা বন্ধের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে যে ময়লা-আবর্জনা/বর্জ্য ফেলা হয়েছে তা অপসারণ করে ১৫ দিনের মধ্যে আদেশ বাস্তবায়নের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত