জুলাই মাসে আমানতে প্রবৃদ্ধি ১১.৪%

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:২৫ পিএম

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ব্যাংক খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। টানা দুই মাস ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির পর আমানত কিছুটা বাড়ল ব্যাংক খাতে। করোনাভাইরাসের সংক্রমনের ঝুঁকির মধ্যেই দেশের জনগণ স্বাভাবিক কর্মকান্ডে ফিরে আসতে শুরু করায় আমানতের প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত হওয়া ও প্রবাসী আয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধিও ব্যাংক আমানত বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। গত জুনে আমানতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৬১ শতাংশ। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।  

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্যাংক খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ দশমিক ৯ শতাংশ, যা চলতি বছরে সর্বোচ্চ। এরপর থেকেই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আমানত কমতে থাকে। যদিও জুলাই মাসে করোনাভাইরাসের তীব্র প্রভাব সত্ত্বেও সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণ এবং দেশব্যাপী লকডাউন প্রত্যাহারে ধীরে ধীরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে শুরু করায় আমানতের প্রবৃদ্ধি উন্নতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

চলতি বছরের এপ্রিলে ব্যাংকে আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ, কিন্তু পরবর্তী দুই মাসে এই ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করে। চলতি বছরের মে ও জুন মাসে আমানতের প্রবৃদ্ধি হয় যথাক্রমে ১১ দশমিক ৬৩ শতাংশ ও ১০ দশমিক ৬১ শতাংশ।

তবে দেশব্যাপী লকডাউন শেষে সঞ্চয়কারীরা ফিরে আসায় জুলাই মাসে আমানত বেড়েছে বলে জানান স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সঞ্চয়কারীদের ব্যাংক ছাড়া আমানত রাখার অন্য কোনো জায়গা নেই। 

যদিও দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, কিন্তু তারপরও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসতে আরও সময় লাগবে। ফলস্বরূপ সুদহার কমার পরও ব্যাংকগুলো সঞ্চয়কারীদের আমানতের চূড়ান্ত লক্ষ্য বলে জানান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জুলাই মাসের শেষার্ধ থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়তে থাকে। এ সময় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়, যা এক মাস আগেও ২০০ কোটি টাকার নিচে ছিল। ব্যাংক আমানতে স্বল্প সুদের কারণে পুঁজিবাজারে ঝোঁক বাড়তে দেখা গেছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ডিএসইতে গড় লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে পুঁজিবাজারে লেনদেন বাড়লেও তাল মিলিয়ে ব্যাংকেও আমানতে প্রবৃদ্ধি রয়েছে।

ব্যাংকাররা জানান, করোনার কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের চাকরি ও আয় হারানোর কারণে সঞ্চয়ী স্কিমের কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি। কিন্তু এখনো করোনার উচ্চ সংক্রমণ সত্ত্বেও পরিস্থিতি বদলেছে। মারাত্মক করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত গ্রাহকদের কারণে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকগুলো আমানত প্রত্যাহারের চাপের মুখে পড়ে, যা ব্যাংক খাতের সার্বিক আমানত পরিস্থিতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিক কর্মকা-ে ফিরে যাওয়ায় আমানত প্রত্যাহারের চাপ কমেছে। অবশ্য প্রবাসী আয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধিও ব্যাংকে আমানত বৃদ্ধিতে অন্যতম ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা। দেশে উচ্চ হারে প্রবাসী আয় বাড়লেও মানুষজন ওই আয়ের পুরোটা ব্যয় না করে ব্যাংকে আমানত হিসেবে রাখছেন। জুলাইয়ে দেশে ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় আসে, যা একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ। 

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বিষয়ে সরকার কঠোর নিয়মকানুন আরোপ করার কারণেও ব্যাংকে আমানত বাড়ছে বলে বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করছেন। যদিও ১ এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ধরনের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার কারণে ব্যাংকে আমানতের সুদহারও কমে যায়।

বিগত অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর পাঁচ শতাংশ হারে উৎসে কর আরোপ করে। আর ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর ১০ শতাংশ হারে করারোপ করা হয়। সরকারের নতুন বিধি অনুসারে, সঞ্চয়পত্র কেনার সময় বিনিয়োগকারীদের ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) ও জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া এক লাখ টাকার বেশি অর্থের ক্ষেত্রে ব্যাংক চেকের মাধ্যমে পরিশোধে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত