লকডাউনের পর সড়কে দুর্ঘটনা ও মৃত্যু দ্বিগুণ

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:১২ এএম

দেশে করোনা প্রতিরোধে দেওয়া ‘লকডাউন’ তুলে নেওয়ার পর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সড়ক দুর্ঘটনা এবং দ্বিগুণেরও বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসজুড়ে গণপরিবহন তুলনামূলকভাবে কম চলাচল করায় আগের তুলনায় অর্ধেকে নেমেছিল সড়ক দুর্ঘটনা। লকডাউনের প্রথম মাস এপ্রিলে দুর্ঘটনা ঘটে ২০১টি। কিন্তু গণপরিবহন পুরোপুরি চালু হওয়ার পর  গত আগস্টে একলাফে প্রায় দ্বিগুণ, অর্থাৎ ৩৮৮টি  সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনায় গত এপ্রিলে প্রাণ হারিয়েছেন ২১১ জন, আর লকডাউন তুলে নেওয়ার পর গত আগস্টে মারা গেছেন দ্বিগুণের বেশি ৪৫৯ জন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গতকাল বুধবার আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনা ও তাতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান দেয়। ওই পরিসংখ্যানের সঙ্গে লকডাউন ছিল না এমন তিন মাসের সড়ক দুর্ঘটনা ও তাতে মৃত্যুর পরিসংখ্যানের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সড়ক নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি ও জবাবদিহির অভাবে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বাড়ছে। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস পদ্ধতি ঢেলে সাজানো ব্যতিরেকে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

সমিতির আগস্ট মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মাসে সারা দেশে শুধু সড়কেই ঝরে গেছে ৪৫৯ জীবন। একই সময়ে রেলপথ ও নৌপথে প্রাণ হারিয়েছে যথাক্রমে ১৪ ও ৮০ জন। গতকাল এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে দুর্ঘটনাপ্রবণ যানের তালিকা, দুর্ঘটনার কারণ, স্থানসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

সমিতির এপ্রিলের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এক মাসে ২০১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সর্বোচ্চ ৯৭টি দুর্ঘটনা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, ৬৩টি দুর্ঘটনা মোটরসাইকেল, ২৯টি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ২৮টি নছিমন ও করিমন, ২২টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ১৭টি প্রাইভেট কার ও একটি বাস এসব দুর্ঘটনায় জড়িত। মোট প্রাণ হারিয়েছেন ২১১, যা আগস্ট মাসে মোট নিহতের অর্ধেকের কম।

আগস্টের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সড়কে সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের চালক। এই মাসে নিহত চালকের সংখ্যা ১৬৭। প্রাণ হারানোর দিক দিয়ে ঠিক পরের স্থানেই আছে ১১০ জন পথচারী।

সমিতি জানায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে মোটরসাইকেল। মোট দুর্ঘটনার প্রায় ২৯ শতাংশ মোটরসাইকেলসংক্রান্ত। প্রায় ২২ শতাংশ দুর্ঘটনা নিয়ে মোটরসাইকেলের পরে রয়েছে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান। তৃতীয় স্থানে থাকা বাসের সংখ্যা প্রায় ১৭ শতাংশ।

পরিসংখ্যানে দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগস্টে মোট দুর্ঘটনার ৪৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ১৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়। মোট দুর্ঘটনার ৫২ দশমিক ৮৩ শতাংশ গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনা, ২৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৩ দশমিক ৯১ শতাংশ খাদে পড়ে, ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ বিবিধ কারণে, শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ এবং শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ২ দশমিক ০৬ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত