ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচন

জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে একাট্টা সাত মনোনয়নপ্রত্যাশী

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৫৩ এএম

ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারের দিন দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একে অন্যকে দায়ী করে দলের হাইকমান্ডের কাছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করেছে। এ ঘটনায় দলের মধ্যে ছড়াচ্ছে উত্তাপ। এ আসনের সাত মনোনয়নপ্রত্যাশী হামলার জন্য যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীরকে দায়ী করে তার শাস্তি দাবি করেছেন। একই সঙ্গে হামলার ঘটনার তদন্ত করে দোষীকে খুঁজে বের করেই এ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য দলের হাইকমান্ডের কাছে আবেদন করেছেন ওই সাত মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে এ আসনের অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত।

অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে দোষের কিছু দেখছেন না দলটির পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপি একটি বড় দল। দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে। তবে দল যাকে যোগ্য মনে করবে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন এ আসনের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

গত ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মনোনয়নপ্রত্যাশী কফিলউদ্দিনের ১২ সমর্থক-নেতাকর্মী আহত হন। আহতরা হলেন বিএনপি নেতা নাজিমউদ্দিন, এসএম রাজ্জাক বকুল, ইয়াকুতুর রহমান, রায়হান, আবদুর রাজ্জাক, সুলতান, বকুল ম-ল, মাসুদ মিয়া, মহিউদ্দিন, বদরুল আলমসহ আরও বেশ কয়েকজন।

এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরকে দায়ী করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দলের হাইকমান্ডের কাছে আবেদন করেন অন্য সাত মনোনয়নপ্রত্যাশী। এদিকে গত বুধবার এ আসনের সাতটি থানার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতারা যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দিতে দলের হাইকমান্ডের কাছে চিঠি দিয়েছেন।

জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেনÑ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম কফিল আহমেদ, দক্ষিণখান থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন, ঢাকা উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আক্তার হোসেন, সহসাধারণ সম্পাদক হাজি মোস্তফা জামান, ঢাকা-১৮-এর মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. বাহাউদ্দিন সাদী ও বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ইয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আব্বাস উদ্দিন। সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে জাহাঙ্গীরের সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণও সংযুক্ত করেছেন তারা।

তারেক রহমানের বরাবর পাঠানো আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সাক্ষাৎকারের দিন সব মনোনয়নপ্রত্যাশীর সমর্থকরা গুলশান কার্যালয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু যুবদল নেতা এসএম জাহাঙ্গীরের লোকজন প্রথম দফায় এম কফিলউদ্দিনের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। হামলায় জাহাঙ্গীরের শ্যালক ছাত্রলীগ নেতা দিপু শিকদার নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া হামলায় অংশ নেয় তার আরেক শ্যালক আহম্মেদ আলী সাগর, দক্ষিণখান থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি আল আমিন সরকার, ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন রুবেল ও শরীয়তপুরের মনিরুল ইসলাম সোহাগ।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, দ্বিতীয় দফায় আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী মোস্তাফিজুর রহমান সেগুনকে জাহাঙ্গীরের সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে কার্যালয়ে ঢুকতে বাধা দেয়। পরে গুলশান কার্যালয়ের লোকজনের সহায়তায় তিনি সাক্ষাৎকারের জন্য প্রবেশ করেন। তৃতীয় দফায় হামলার নেতৃত্ব দেন যুবদল নেতা মাসুদ আলম মিঠু, আলমগীর হোসেন, আমিনুল হক, মোস্তফা কামাল রিয়াদ, তুরাগ থানার যুবদল নেতা আলমাস আলী, উত্তরাপূর্ব থানা বিএনপির এস আই টুটুল একযোগে গুলশান কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। কার্যালয়ের নিচতলায় অপেক্ষমাণ ব্যক্তিদের ওপর হামলা করতে উদ্যত হলে সেখানকার লোকজনের বাধায় তারা বের হয়ে যায়। এতে আরও অভিযোগ করা হয়, চতুর্থ দফায় উত্তরখান থানা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল খান সাবেক ছাত্রনেতা মতিউর রহমান মতিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

অভিযোগপত্রে গত একাদশ সংসদ ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত কাউন্সিলরপ্রার্থীদের পক্ষে এসএম জাহাঙ্গীরের কাজ না করার অভিযোগ করেন। সিটি নির্বাচনে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলরদের সঙ্গে আঁতাত, তার শ^শুরবাড়ির আওয়ামী লীগের আত্মীয়দের সঙ্গে আঁতাত করে বিএনপি প্রার্থীদের ওপর হামলা করানো, তার অনুগত কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রায় সবার জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়াসহ নানান অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে গত বুধবার ঢাকা-১৮ আসনের আওতাধীন সাতটি থানার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অঙ্গ সংগঠনসমূহের শীর্ষ নেতারা এসএম জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমদকে চিঠি দেন। একই চিঠির অনুলিপি তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হয়।

জাহাঙ্গীরবিরোধী মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অভিযোগের জবাবে জাহাঙ্গীর বলেন, সাক্ষাৎকারের দিন আমি অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কার্যালয়ের ভেতরে ছিলাম। বাইরে কে কী করেছে সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। তার সমর্থকরা কফিলউদ্দিনের সমর্থকদের ওপর হামলা করেনি বলেও মন্তব্য করেন যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের এই সভাপতি। তিনি বলেন, ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনের বিষয়টি আলোচনায় আসার পর থেকে আমার বিরুদ্ধে কিছু নেতাকর্মী মিথ্যা অভিযোগ আনছেন একের পর এক। তারা বলছেন, আমার মামলার সংখ্যা নাকি কমছে। অভিযোগ সত্য নয়। আমার বিরুদ্ধে আড়াইশো মামলা রয়েছে। এখনো দিন শুরু হয় আদালতে হাজিরা দিয়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত