বাংলাবাজার বই মার্কেট

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:১০ এএম

বই বাজারখ্যাত পুরান ঢাকার বাংলাবাজার। করোনা সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে নেই তেমন বেচাকেনা। যদিও দোকানপাট চালু রয়েছে। পুঁজি কমে যাওয়ায় অনেক দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। কেউ জানেন না কবে সেগুলো চালু হবে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এখানে বেচাকেনা নির্ভর করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ওপর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিকিকিনি নেই বললেই চলে। কেউ কেউ দোকান চালাতে না পেরে ব্যবসা পরিবর্তন করছেন। এর ফলে এখানকার লক্ষাধিক কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন।

বাংলাবাজারের খান প্রোডাক্টসের মালিক দিলীপ কুমার আচার্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এক যুগের বেশি সময় ধরে বই ব্যবসায় জড়িত ছিলাম। অনেক কিছু করেছি এই ব্যবসা দিয়ে। এখন করোনার ধাক্কায় শেষ হয়ে গেছি। সমস্যাটা যদি এক-দুই মাস হতো তাহলে ব্যবসাটা টিকিয়ে রাখতে পারতাম। কিন্তু সমস্যাটি অনেক দিন ধরে। কবে শেষ হবে বলতে পারছি না। বাধ্য হয়ে দোকান ছেড়ে দিয়েছি।’ শখের ব্যবসাটি ছেড়ে তিনি এখন বিয়ের কার্ড ছাপার ব্যবসা করছেন বলেও জানান দিলীপ কুমার।

সরেজমিন দেখা যায়, বাংলাবাজারে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় চার হাজারের মতো দোকান রয়েছে। বেশিরভাগ দোকানে তেমন বেচাকেনা নেই। অনেক মার্কেটে তালা ঝুলছে। কালি-কলম প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী তারেক ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেচাকেনা করতাম। করোনার প্রভাবে এখন বেচাকেনা তেমন নেই। সারা দিন বসে থেকে মাত্র এক/দুই হাজার টাকা বিক্রি করি।’ ব্যবসা চালাতে খুবই সমস্যা হচ্ছে বলেও জানান কালি-কলমের মালিক তারেক।

আজিজিয়া বুক হাউজের বিক্রেতা সজিব মাহমুদ জানান, এই দোকানে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার বই বিক্রি হতো। এখন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। বিসিএস ও নবম শ্রেণির কিছু বই বিক্রি হচ্ছে। সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছে। তাছাড়া পরিচিতদের অনেকে  চাকরি হারিয়েছেন। সামনে যে কী হয় কিছুই বলা যাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এখানকার সমিতির নেতারা করোনার মধ্যে কোনো উপকারে আসেননি। তারা করোনায় যে কয় মাস দোকান বন্ধ ছিল সেই মাসগুলোর ভাড়া যদি মার্কেট মালিকদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে মওকুফ করতেন ভালো হতো।’ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়িক সমিতির নেতারা ভাড়া মওকুফ করেছেন বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহসভাপতি শ্যামল পাল বলেন, ‘দেশে ২৫ হাজারের মতো তালিকাভুক্ত লাইব্রেরি রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেগুলোর অধিকাংশই বন্ধ। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাবাজারেও। এই দুঃসময়ে সরকারের উচিত বই মার্কেটের দিকে নজর দেওয়া। নইলে বই ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নামবে।’ লকডাউনে বন্ধের সময় ভাড়া মওকুফের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘দোকানমালিকদের একটি প্রস্তাব দেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত