জীবন রক্ষাকারী ওষুধ তৈরির জন্য গবেষকদের চেষ্টা নিরন্তর। গবেষণা চলাকালে জীবন বাঁচানো কিছু ওষুধ তৈরি হয় বিজ্ঞানীদের অজান্তেই। শুরুতে গুরুত্ব না বুঝলেও এই ওষুধগুলো বহু বছর ধরে চিকিৎসায় অবদান রেখে চলেছে। লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
পেনিসিলিন
যুগে যুগে জীবন বাঁচানোর যুদ্ধে বহু বিজ্ঞানী শামিল হয়েছেন। কেউ সফলতা পেয়েছেন, কেউবা থেমে গেছেন। আবার কেউ হয়তো বানাতে চেয়েছেন এক রোগের ওষুধ, সেটি পরে ব্যবহৃত হয়েছে অন্য কোনো রোগে। এমনই এক ওষুধের নাম পেনিসিলিন। অ্যান্টোবায়োটিক নামে পরিচিত এই পেনিসিলিন মানব জাতির চিকিৎসা ইতিহাসে এনে দিয়েছিল নতুন মোড়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন সাধারণ কাটাছেঁড়া বা অপারেশনে, সিফিলিস, যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, টাইফয়েড, গনোরিয়াসহ ব্যাক্টেরিয়াঘটিত শত শত রোগে মানুষ মারা যাচ্ছে তখন এই পেনিসিলিনের আবিষ্কার যেন মানুষের জীবন বাঁচানোর আশীর্বাদ হয়ে আসে।
পেনিসিলিন সম্পর্কে জানার আগে অ্যান্টোবায়োটিক নিয়ে কিছু তথ্য জানা যাক। অ্যান্টিবায়োটিক এমন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক যৌগ যা অণুজীবের বংশবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করে। অ্যান্টিবায়োটিক মূলত তৈরি হয় একটি নির্দিষ্ট অণুজীব থেকে, কিন্তু নিজেদের কার্যক্ষমতা প্রদর্শন করে অন্য একটি অণুজীবের ক্ষেত্রে। আজকের এই আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিক এক দিনেই তৈরি হয়নি। এর ব্যবহার হয়ে আসছে অনেক আগে থেকেই। গ্রিক এবং ভারতীয়রা যে কোনো সংক্রমণে মোল্ড (ছত্রাক) ব্যবহার করত। আবার সার্বিয়াতেও সংক্রমণ হলে ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি ব্যবহার করত। ব্যাবিলনিয়ান চিকিৎসকরা ব্যাঙের পিত্ত এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া দুধের মিশ্রণ ব্যবহার করতেন চোখের অসুখের চিকিৎসায়। শ্রীলঙ্কান সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মাঝে এক ধরনের বিশেষ মিষ্টান্ন দ্রব্যের ব্যবহার দেখা যেত জীবাণুনাশক হিসেবে। এ সব কিছুর মাঝেই ছত্রাকের উপস্থিতি ছিল। প্রাচীন সময়ে পরীক্ষা করে আনুষ্ঠানিক নাম না থাকলেও ধীরে ধীরে নানা ক্ষেত্রে অ্যান্টোবায়োটিকের ব্যবহার বাড়তে থাকে। বিংশ শতাব্দীর দিকে এর ব্যবহারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং।
শত শত জীবন বাঁচানো এই পেনিসিলিনের আবিষ্কার হয় একটি ভুল থেকে। ১৯২৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস। স্প্যানিশ ফ্লুতে ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের জীবাণুর কোনো সম্ভাব্য প্রতিষেধক পাওয়া যায় কি না তা নিয়ে স্কটল্যান্ডের সেন্ট মেরিস হাসপাতালের গবেষণাগারে স্ট্যাফাইলোকক্কাস নামক এক ব্যাক্টেরিয়া নিয়ে বেশ অনেকদিন ধরেই কাজ করছিলেন বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্লেমিং। কাজ করতে গিয়ে সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে ফ্লেমিং একদিন ভুল করে ব্যাক্টেরিয়া জন্মাবার পাত্র অর্থাৎ পেট্রিডিশগুলো (ল্যাবরেটরিতে ব্যবহৃত একধরনের ছোট গোল স্বচ্ছ পাত্র) পরিষ্কার না করে সেভাবেই রেখে দেন। এরপর চলে যান ছুটিতে। গ্রীষ্মের ছুটি কাটিয়ে ফিরে পুরো গবেষণাগারকে দেখতে পেলেন ধুলোভর্তি অবস্থায়। কাজ শুরু করার জন্য আগে সবকিছু পরিষ্কার শুরু করলেন। খেয়াল করলেন, পেট্রিডিশে রাখা স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস ব্যাকটেরিয়াগুলোতে পেনিসিলিয়াম নোটাটাম নামক একধরনের ছত্রাকের সংক্রমণ হয়েছে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এই ছত্রাকের কারণে তার চারপাশে ব্যাকটেরিয়া জন্মাচ্ছে না। কৌতূহলী ফ্লেমিং আরও কয়েক সপ্তাহ সময় নিয়ে সংক্রমিত সেই পেট্রিডিশকে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে রেখে খেয়াল করলেন, পেনিসিলিয়াম নোটাটাম ছত্রাকটি স্ট্যাফাইলোকক্কির স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা তৈরি করছে।
এই ঘটনায় ফ্লেমিং বেশ খুশি হলেন। কারণ তিনি বিজ্ঞানী উইলিয়াম রবার্টসের পেনিসিলিন ব্যবহারের ঘটনা জানতেন। ১৮৭৪ সালে প্রায় একই ধরনের পেনিসিলিন ছত্রাক ব্যবহার করা হয়েছিল ড্যানিশ ব্লু চিজ তৈরিতে। উইলিয়াম তার গবেষণাগারে কয়েক টুকরো ব্লু চিজ ফেলে গিয়েছিলেন। কয়েক সপ্তাহ পর ফিরে এসে সেগুলোকে কোনো ধরনের পচন ছাড়া অক্ষত অবস্থায় পেয়ে তিনি বিস্তর গবেষণা শুরু করেন। জানলেন এই চিজের পেনিসিলিয়ামই মূলত এই পচন রোধের জন্য দায়ী। বিজ্ঞানী লুইস পাস্তুরও পরীক্ষা করে জেনেছিলেন পেনিসিলিয়াম জন্মানো পাত্রে এনথ্রাক্স জীবাণু জন্মায় না।
পেনিসিলিয়াম ছত্রাকটি মূলত পেনিসিলিন নামক এক ধরনের রাসায়নিক ক্ষরণ করে, যা ব্যাক্টেরিয়া জন্মানোকে প্রতিহত করে। ফ্লেমিং এটি নিয়ে আরও গবেষণা শুরু করলেন। দেখতে পেলেন এই রাসায়নিক পদার্থে স্কারলেট ফিভার, নিউমোনিয়া, ডিপথেরিয়া, গনোরিয়া আর মারণঘাতী মেনিনজাইটিসের জীবাণুও জন্মাতে পারে না। এই রাসায়নিক দিয়ে কীভাবে এসব রোগ মোকাবিলা করা যায় তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেন ফ্লেমিং। ১৯৪২ সালে সফলতা মেলে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত আমেরিকার ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো ৪০০ মিলিয়ন ইউনিট পেনিসিলিন তৈরি করে। যুদ্ধের শেষ নাগাদ হিসাব করে দেখা যায় আমেরিকাতে ৬৫০ বিলিয়ন ইউনিট পেনিসিলিন তৈরি হয়েছে, যা মিত্র বাহিনীতে জীবাণু সংক্রান্ত রোগের মৃত্যু হার ৯০ শতাংশ হ্রাস করে। যুগান্তকারী অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন আবিষ্কারের জন্য আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ১৯৪৫ সালে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।
লিথিয়াম
১৮১৭ সালে লিথিয়াম প্রথম আবিষ্কৃত হয় কেমিক্যাল উপাদান হিসেবে। ১৮০০ সালের মধ্য দিকে ইউরেট এর ভারসাম্যহীনতার দিকে বেশ নজর দেওয়া হয়। এর কারণ হচ্ছে মানিয়া (বাইপোলার ডিজঅর্ডারের সঙ্গে মানসিক অবস্থার প্রচুর পরিবর্তন) এবং ডিপ্রেশনের ধরনে নানা পরিবর্তন। এই সময়েই জানা যায়, ইউরেটের তৈরি পাথর নষ্ট করে ফেলতে পারে লিথিয়াম কার্বনেটের একটি দ্রবণ। ১৮৭১ সালে মানিয়ার চিকিৎসার জন্য এই লিথিয়াম প্রথম ব্যবহার করা হয়। ডিপ্রেশন দূরীকরণের জন্য লিথিয়াম কার্বনেটের (লিথিয়ামকে আগে এ নামেই ডাকা হতো) ব্যবহার শুরু হয় ১৮৮৬ সাল থেকে। মানুষের মাঝে যত পরিচিত হতে থাকে, ততই এর ব্যবহার বাড়তে থাকে ধনীদের স্পা, গোসলের পানি আর বিভিন্ন খাবার পানীয়তে। কারণ বেশিরভাগ তরলই তৈরি হতো লিথিয়াম দিয়ে। তখনো লিথিয়ামের ক্ষতিকর দিক নজরে আসেনি। যখন কম সোডিয়ামের ডায়েট পানীয়তে লবণের বিকল্প হিসেবে লিথিয়াম ব্যবহার করা হয়, তখন কয়েকজনের মৃত্যু হলে এর ক্ষতিকারক দিক সবার নজরে আসে। এদিকে লিথিয়াম যখন ক্ষতিকর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, তখন অস্ট্রেলিয়ান সাইকিয়াট্রিস্ট জন কেড মানিয়া রোগের চিকিৎসার জন্য লিথিয়ামের ব্যবহার শুরু করেছেন। তখন সাল ১৯৪৮। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বেশ খানিক প্রভাবও রয়ে গেছে সে সময়। তিনি লিথিয়াম আর ইউরেট মিলিয়ে কাজ করছিলেন। জন কেড সুস্থ মানুষ এবং মানসিক রোগে আক্রান্ত রোগীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা মূত্র গিনিপিগের তলপেটে প্রবেশ করান। যেসব গিনিপিগের শরীরে সুস্থ মানুষের মূত্র প্রবেশ করানো হয়েছিল তাদের তুলনায় মানসিক রোগে আক্রান্ত রোগীর মূত্র প্রবেশ করানো গিনিপিগগুলো দ্রুত মারা গেল। তিনি আবিষ্কার করলেন, গিনিপিগগুলো দ্রুত মারা যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত ইউরিক এসিড দায়ী। অর্থাৎ মানসিক রোগীদের রক্তে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড রয়েছে। এসিডের দ্রাব্যতা বৃদ্ধির জন্য তাতে লিথিয়াম দ্রবণ যোগ করা হয়। এই দ্রবণ গিনিপিগের শরীরে প্রবেশ করানোর পর তিনি খেয়াল করলেন সেগুলো উত্তেজিত হওয়ার পরিবর্তে শান্ত ছিল। মানুষের শরীরেও এই দ্রবণ একইভাবে কাজ করবে কি না অথবা সেটি নিরাপদ কি না তা প্রমাণ করতে কেড নিজের শরীরেও লিথিয়াম প্রয়োগ করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন মানসিক রোগের চিকিৎসায় লিথিয়াম ব্যবহার করা শুরু করেন তিনি।
বাইপোলার ডিজঅর্ডার রোগীদের জন্য লিথিয়ামের ব্যবহার ব্যাপকভাবে শুরু হয় বেশ পরে। এর কারণ কেড নিজেই বলে গেছেন। কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়া, পুরনো যন্ত্রপাতি এবং প্রাচীন কৌশল নিয়ে একটি ছোট হাসপাতালে কাজ করা একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের আবিষ্কার করা কোনোকিছুতে সহজে কারও দৃষ্টি পড়বে না এটাই স্বাভাবিক। এই বাস্তবতা তিনি জানতেন বলেই খুব একটা হতাশ হননি। ধীরে ধীরে বাইপোলার ডিজঅর্ডার রোগীদের নিয়মিত লিথিয়ামের ডোজ দিতে দিতে এক সময় এর ব্যবহার প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশন লিথিয়ামের ব্যবহার করাকে অনুমতি দেয়।
ক্লোরপ্রোমাজিন
১৯৫১ সালের ১১ ডিসেম্বর ফ্রেঞ্চ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি রোঁন-পলেনের গবেষণাগারে সর্বপ্রথম সংশ্লেষের মাধ্যমে ক্লোরপ্রোমাজিন তৈরি করেন পল কার্পেন্টার। মনোরোগে এই উপাদানটির ব্যবহার ১৯৫২ সালে শুরু করেন ফ্রেঞ্চ আর্মিতে চাকরিরত সার্জন ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হেনরি ল্যাবোরিট। সার্জিক্যাল শক দিয়ে কীভাবে কৃত্রিম হাইবারনেশন (শীতে আরাম) দেওয়া যায় সেটি নিয়ে গবেষণা করছিলেন তিনি। হিউগেনার্ড এবং অ্যালিউম নামে দুটি ওষুধ একত্রিত করে এক ধরনের অ্যানেস্থেটিক ককটেইল তৈরি করলেন তিনি। এটির ব্যবহারে শরীরের তাপমাত্রায় প্রভাব কম পড়ত। তিনি খেয়াল করলেন, ক্লোরপ্রোমাজিন এর ৫০-১০০ মিলিগ্রাম ডোজ দিলে ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে পড়েন না, তবে তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব টিকে থাকে। যার কারণে আশপাশের অন্যান্য বিষয়ের দিকে সেভাবে আগ্রহ তৈরি হয় না। এটি নিয়ে পলের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। তার এই গবেষণার পর ক্লোরপ্রোমাজিন মনোরোগবিদ্যায় ব্যবহার শুরু হয়।
ইমিপ্রামিন
ক্লোরপ্রোমাজিনের সঙ্গে গঠনগত মিল রয়েছে ইমিপ্রামিনের। আর এ কারণে এই ওষুধও মনোরোগ সংক্রান্ত কোনো চিকিৎসায় ব্যবহার করা যায় কি না তা নিয়ে গবেষণা করছিল সুইস ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি। রোনাল্ড কুন ছিলেন একজন সুইস সাইকিয়াট্রিস্ট, কাজ করতেন মুনস্টারলিনজেনের ক্যান্টোনাল মেন্টাল হাসপাতালে। তিনি মূলত চেষ্টা করছিলেন ইমিপ্রামিনকে সিজোফ্রেনিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহার করতে। গবেষণার প্রধান দায়িত্বে থাকা রবার্ট ডোমেনজোযকে কুন পরামর্শ দিলেন ইমিপ্রামিনের প্রয়োগ করার জন্য। যে আশা নিয়ে কুন এই পরামর্শ দিয়েছিলেন, কাজ শেষ করার পর তিনি বেশ হতাশ হলেন। সিজোফ্রেনিয়ার চিকিৎসায় এই ওষুধ একদম কাজ করল না। তবু কুনের মনে হচ্ছিল একই রকম গঠন যেখানে, সেখানে এক রোগে সরাসরি না হলেও অন্য কোনো রোগে হয়তো কাজ হতে পারে। ওষুধের সব সাপ্লাই ফিরিয়ে দেওয়ার আগে কুন নিজ থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে হাসপাতালে ভীষণ ডিপ্রেশনে থাকা অন্তঃসত্ত্বা একজন নারী রোগীর শরীরে ইমিপ্রামিন প্রয়োগ করলেন। সাল তখন ১৯৫৬, ১৮ জানুয়ারি। প্রয়োগ শেষে হাতে হাতে সুফল পেলেন কুন। সেই রোগীর ডিপ্রেশন কমে এলো। কিছুটা সাহস করেই আরও দুজন ডিপ্রেশনে থাকা অন্তঃসত্ত্বা নারী রোগীর শরীরে প্রয়োগ শেষে একই ফল পাওয়া গেল। ওষুধে কাজ হচ্ছে কি না সেটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য এই তিনজনের ওপর ইমিপ্রামিন প্রয়োগ কয়েকদিন বন্ধ রাখা হয়। দেখা যায়, তারা আবার ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছে। ফের ওষুধ দিলে বেশ ভালো থাকে। এই তিনজনের পর আরও ৪০ জন ডিপ্রেশনে থাকা রোগীর ওপর ইমিপ্রামিন প্রয়োগ করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তিনি বুঝতে পারলেন এই ওষুধ ডিপ্রেশনে থাকা অন্তঃস্বত্তা রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কার্যকর। ১৯৫৭ সালে ইমিপ্রামিন নিয়ে কুন তার প্রথম গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন সুইস মেডিকেল জার্নালে। ডিপ্রেশনের বিরুদ্ধে এই ওষুধ কাজ করবে সেটি নিয়ে ১৯৫০ সালের দিকে অ্যাকাডেমিক সাইকিয়াট্রি অনেক বিরোধিতা করেছিল। তবে তিনি হার মানেননি, নিজের চেষ্টা ক্রমাগত চালিয়ে গেছেন। শেষ পর্যন্ত কুনের আবিষ্কৃত ইমিপ্রামিনের অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট প্রভাব সফল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। চিকিৎসায় উন্মুক্ত হয় নতুন পথ।
নাইট্রাস অক্সাইড
১৭৭২ সালে বেশ কয়েকটি লক্ষণীয় উদঘাটনের পর জোসেফ প্রিস্টলে ততদিনে অক্সিজেন ও কার্বন মনো অক্সাইডকে আলাদা করার জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছেন। তবে পরিচিতি বাড়লেও কাজ থামিয়ে দেননি তিনি। আয়রন ফিলিংয়ে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট গরম করে সেটি থেকে নির্গত হওয়া গ্যাস আলাদা করার চেষ্টা করছিলেন বিজ্ঞানী জোসেফ। চেষ্টায় সফলও হন। নির্গত হওয়া গ্যাস আলাদা করে এর নাম দেওয়া হয় নাইট্রাস অক্সাইড। কাজ করতে গিয়ে নিঃশ্বাসের সময় গ্যাসটি জোসেফের শরীরে প্রবেশ করলে তিনি শান্ত হয়ে অসাড় হয়ে যান। আবিষ্কৃত হয় অ্যানেস্থেসিয়ায় ব্যবহারের জন্য নতুন এক পদ্ধতির। চিকিৎসাশাস্ত্রে এই আবিষ্কারের কার্যকারিতা অনেক বেশি, ব্যবহারও হয়ে আসছে অনেকদিন ধরে।
