আজ থেকে বায়ো-বাবল পরিবেশে ক্রিকেটাররা

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৪৯ এএম

এখনো অনিশ্চিত বাংলাদেশের আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফর। তারপরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নিচ্ছে সফরের সব প্রস্তুতি। আজ থেকেই ‘বায়ো-বাবল’ এর নিরাপদ-সুরক্ষিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ঢুকে পড়ছে জাতীয় ক্রিকেট দল। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে তিনদিনের বিরতি শেষে আজ আবার শুরু হচ্ছে কন্ডিশনিং ক্যাম্প। মাঠ থেকে ক্রিকেটারদের গন্তব্য হতে যাচ্ছে রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেল। সেখানেও ‘বাবল’ আছে তৈরি।

নির্বাচকরা ২৭ সদস্যের একটি প্রাথমিক জাতীয় দল গড়ে রেখেছেন আগেই। শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ দলের জন্য ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন গাইডলাইন শিথিল করতে রাজি না হওয়ায় কিছু ঝামেলা তৈরি হয়েছে। নির্বাচকরা দল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারেননি। তবে এর মধ্যে নির্বাচিত ক্রিকেটাররা ঢাকার বাইরে থেকে চলে এসেছেন। শুক্রবার ঢাকায় থাকা ১৮ ক্রিকেটারের করোনাভাইরাস টেস্ট করা হয়েছিল। সবার ফল ‘নেগেটিভ’ এসেছে। ঢাকার বাইরে থেকে আসাদের টেস্ট হয়েছে গতকাল। আজই মিলবে ফল। বিদেশি কোচিং স্টাফদের এই দফা টেস্ট করা হয়নি। কারণ, অন্তত তিনবার করে টেস্ট এর মধ্যে হয়ে গেছে তাদের।

কিন্তু সফর কি হবে? বিষয়টি বেশ ঘোলাটে এখন। বিসিবি আগেই জানিয়ে দিয়েছে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের শর্ত পূরণ করে তারা সফর করবে না। এমনকি সফর দল ৩০ জনের মধ্যে রাখার যে বাধ্যবাধকতা শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে তাও মানা সম্ভব না। বিষয়টি নিয়ে বেশ দৌড়াদৌড়ি করছিলেন শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী ও বোর্ড সভাপতি। তবে প্রথম দফায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবস্থান থেকে সরিয়ে আনা যায়নি। শুক্রবার আবার বোর্ডের উচ্চ পদস্থদের সঙ্গে লঙ্কান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠক হলো। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুজন চিকিৎসক, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের কয়েকজন কর্মকর্তা, মেডিক্যাল স্টাফ ও কোচরা। আইসিসির ম্যাচ রেফারি লঙ্কান কিংবদন্তি রঞ্জন মাদুগালেও শ্রীলঙ্কান বোর্ডের অনুরোধে মন্ত্রণালয়ের চিকিৎসকদের বোঝাতে গিয়েছিলেন বৈঠকে। শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ দল ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন না করলেও যে তা নিরাপদ সেটা বোঝানোর চেষ্টা ছিল তার।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেয়, ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন করতেই হবে বাংলাদেশ দলকে। শুক্রবারের বৈঠকে উপস্থিত থাকা একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘বায়ো-সিকিউর বাবলে ক্রিকেটারদের অনুশীলনের বিষয়টা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। আমরা এও ব্যাখ্যা করেছি যে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা কারও সঙ্গে মেলামেশা করবে না। এমনকি গোটা হোটেল কেবল তাদের জন্য থাকবে। ম্যাচ হবে ২১ দিন পর। ওখানে আম্পায়ার, গ্রাউন্ডসম্যানরা তার আগে যে থাকবে না তাও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।’

নিজেদের মধ্যে আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আলোচনার বিষয় আছে। শোনা গেছে, সিদ্ধান্ত দ্রুতই আসবে।

এদিকে এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশের প্রস্তুতি জোরেশোরে এগুচ্ছে। যে হোটেলে তারা উঠছে সেটির ৩৫ জন স্টাফেরও কভিড-১৯ টেস্ট করা হয়েছে। হোটেলের দুটি ফ্লোর বিসিবি বুক করেছে। সেখানে ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফরা থাকবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ দলের দেশ ছাড়ার কথা। তার আগে হোটেলের যেসব কর্মচারী ক্রিকেটারদের সংস্পর্শে আসবেন তারা থাকবেন আলাদা একটি ডরমিটরিতে। ক্রিকেটারদের বহন করা টিম বাসের ড্রাইভারেরও করোনা টেস্ট করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত