নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আওয়ামী লীগ নেতা আলী হোসেন আলা ও থানা ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবর রহমান সাগর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে কদমতলী নয়াপাড়া বাগানবাড়ি এলাকায় সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।
ছাত্রদল নেতা সাগর জানান, সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলী হোসেন আলার সঙ্গে কদমতলী এলাকায় ২২ শতাংশ জমি নিয়ে তাদের বিরোধ চলছে। কাউন্সিলর আলা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী এই জমি দখল করতে দীর্ঘদিন ধরে পাঁয়তারা করে আসছেন। এ ঘটনায় তার মা রেজিয়া বেগম নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ জজ আদালতে মামলা করেন। আদালত ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর ওই জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যার সাইনবোর্ড লাগানো রয়েছে। তারপরও গত শনিবার সেখানে ড্রেজার লাগিয়ে বালু ভরাট কাজ শুরু করে কাউন্সিলরের লোকজন। বাধা দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে থানায় জিডি করেন। ওসি (তদন্ত) ইসতিয়াক রাসেলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল কাজ বন্ধ করে দেয়।
সাগরের অভিযোগ, পুলিশ বালু ভরাটকাজ বন্ধ করার পর রবিবার সকালে কাউন্সিলর আলার নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফের বালু ভরাটের কাজ শুরু করে। খবর পেয়ে বাধা দিতে গেলে কাউন্সিলরের লোকজন হামলা চালায়। এতে তিনিসহ ১০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে মানিক, কামাল হোসেন ও মানিক হোসেনের অবস্থা গুরুতর। তাদের নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষে আলা গ্রুপের হারুন অর রশিদ, মো. মোল্লাসহ ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলর আলা বলেন, ‘সাগরের লোকজন শুক্রবার রাতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা সাইনবোর্ড লাগিয়েছে। আমি আমার কেনা জমিতে বালু ভরাট করতে গেলে সাগরের লোকজন হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি বলেন, জমিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মারামারির খবর শুনেছি। কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
