বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে শিডিউল ফ্লাইট চালানোর অনুমতি না দেওয়ায় ঢাকায় সাউদিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষ (বেবিচক)। গতকাল রবিবার বেবিচক কর্র্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এটি কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় পুনরায় ফ্লাইট চালু করবে বলে জানায় সাউদিয়া অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস।
এর আগে প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পায় সংস্থাটি। কিন্তু গতকাল এ সিদ্ধান্ত বাতিল করে বেবিচক। গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত বাতিল করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।হঠাৎ বাংলাদেশের তরফ থেকে এ ধরনের ঘোষণা দেওয়ায় সাউদিয়া এয়ারের কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, করোনা মহামারীতে নিয়মিত ফ্লাইট স্থগিত থাকায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক আটকে থাকার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রতি সপ্তাহে দুটিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি চায় সাউদিয়া অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস। কিন্তু তাদের সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয় বেবিচক। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি আরবের তিন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার শিডিউল ঘোষণা করে।
বৃহস্পতিবার বিমান জানায়, সৌদি কর্র্তৃপক্ষ শর্ত সাপেক্ষে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছিল। সে অনুযায়ী বিমান ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সৌদি কর্র্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়নি। সৌদি সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর বিমান ফ্লাইট পরিচালনা করবে। পরবর্তী সময়ে যথাসময়ে ফ্লাইটসংক্রান্ত তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। করোনার সংক্রমণ শুরু হলে গত মার্চ থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ায় সৌদি আরব গত ১৫ সেপ্টেম্বর তাদের আন্তর্র্জাতিক বিমানবন্দরগুলো সীমিত আকারে খুলে দেয়। তারপরই ঢাকায় সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট চালানোর অনুমোদন চাইলে বেবিচক তাতে সম্মতি দেয়। সে অনুযায়ী ২৩ সেপ্টেম্বর দুটি ফ্লাইট অপারেট করার জন্য টিকিটও বিক্রি করে। কিন্তু একই সময়ে বিমানও সপ্তাহে দুটি শিডিউল অপারেট করার অনুমতি চাইলেও তাতে রাজি হয়নি সৌদি আরব কর্র্তৃপক্ষ। এ খবরে ঢাকায় অসন্তোষ দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্র্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সমালোচনা দেখা দেয়। এতে বেবিচকসহ বিমান বেশ চাপের মুখে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেবিচক আন্তঃমন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বৈঠকে ১ অক্টোবর থেকে ঢাকায় সাউদিয়া এয়ারের শিডিউল ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ আশীষ রায় চৌধুরী বলেন, আজকের এভিয়েশন বিশ্বে কিছু কমন পলিসিতে চলে। এক দেশ আরেক দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এভিয়েশন খাত। এটা শুধু দেশীয় বৈশ্বিক। ভ্রাতৃপ্রতিম সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও বেশ চমৎকার। বিগত দিনগুলোতে অন্যান্য সেক্টরের মতো এভিয়েশন খাতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও বোঝাপড়া যথেষ্ট ভালো। সে হিসেবে ঢাকায় সাউদিয়া শিডিউল ফ্লাইটের সুযোগ পেলেও বিমানের বেলায় তা থেকে বঞ্চিত করাটা মোটেও শোভনীয় নয়। কাজেই সাউদিয়ার ফ্লাইট বাতিল করে সিভিল এভিয়েশন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটাই নিয়েছে।
