বেকারত্ব হ্রাস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পর্যটন আইনের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানো হবে। এসব বিধান রেখে সংশোধন করা হচ্ছে ‘বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন আইন, ২০২০’। আইনটির খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আজ মন্ত্রিসভা বৈঠকে তোলা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে এবং অন্য মন্ত্রীরা সচিবালয় থেকে এ বৈঠকে অংশ নেবেন।
পর্যটন করপোরেশন আইনের খসড়া ছাড়াও বৈঠকের এজেন্ডায় ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা, আইন. ২০২০’ এ খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন এবং ‘চিকিৎসা ডিগ্রি (দ্য মেডিকেল ডিগ্রিজ) (রহিতকরণ) আইন, ২০২০ এর নীতিগত অনুমোদন রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ এবং সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন সংক্রান্ত যৌথ ঘোষণাপত্রের অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন এবং বাংলাদেশ ও কমনওয়েলথ অব ডোমিনিকার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন সংক্রান্ত যৌথ ঘোষণাপত্রের খসড়া অনুসমর্থনের প্রস্তাব এজেন্ডায় স্থান পেয়েছে।
১৯৭২ সালের পর্যটন করপোরেশন অর্ডারের আলোকে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালের জারিকৃত আইনটি সংশোধন করে যুগোপযোগী করে পর্যটন করপোরেশনের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত হয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যটন পরিষদের সভায়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নসহ পর্যটন শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে বেকারত্ব হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয় বাড়ানো এবং পর্যটন কাজের পরিধি বিস্তৃত করার জন্য এই আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান।
মাত্র তিন সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে দেশের পর্যটন খাতের একমাত্র সরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (বিপিসি)। বিপুল কর্মযজ্ঞ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছিলেন কর্মকর্তারা। এমন বাস্তবতায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে নতুন পরিচালনা পর্ষদ। হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁর পাশাপাশি পর্যটনের গবেষণা ও প্রকাশনায়ও ভূমিকা রাখবে বিপিসি। এমন নানামুখী পরিবর্তন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম দফায় ক্ষমতায় এসে ১৯৯৯ সালে একটি আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেন। ২০ বছর পর সেই নির্দেশনার আলোকে ‘বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন আইন-২০২০’ প্রণীত হতে যাচ্ছে।
পর্যটনের বিকাশের জন্য ‘জাতীয় পর্যটন সংস্থা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) আইন-২০১০’ পাস করা হয়। শুরুতে করপোরেশন ৬টি ছোট ইউনিট নিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। যা বেড়ে বর্তমানে ৪৪টিতে উন্নীত হয়েছে। এরমধ্যে বিপিসির সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত ইউনিটের সংখ্যা ৩১। অন্যগুলো ইজারা ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। শুরুতে এক কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে বিপিসির যাত্রা শুরু হয়। সাময়িক সে আদেশের বদলে এবার আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে বিপিসি। খসড়া আইনে অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে এক হাজার কোটি টাকা। প্রাথমিক অংশীদারি মূলধন হবে ২০০ কোটি টাকা, যা সরকারের অনুমোদনক্রমে সময়ে সময়ে বাড়ানো যাবে।
নতুন আইন অনুযায়ী পর্যটন করপোরেশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হবেন ১৫ জন। খসড়া আইনে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে, যিনি আগামীতে প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাছাড়া সদস্য হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিবেশ মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পর্যটন খাতের বেসরকারি প্রতিনিধি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের একজন শিক্ষক থাকবেন। সদস্যদের মেয়াদ তিন বছর। করপোরেশনের তহবিল থেকে সব কার্য সম্পাদন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের কথা বলা হয়েছে খসড়া আইনে।
পর্যটকদের জন্য হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, বিশ্রামাগার, পিকনিক স্পট, ক্যাম্পিং সাইট, নাট্যশালা, বিনোদন পার্ক, নৃত্যশালা, ওয়াটার স্কিইং সুবিধা সৃষ্টিতে কাজ করবে বিপিসি। আগে যেসব হোটেল-মোটেল ছিল, সেগুলোও এই আইনের অধীনে নতুন করে পরিচালিত হবে। এ ছাড়া ভ্রমণ সংস্থা গঠন বা দলবদ্ধ ভ্রমণ আয়োজনের জন্য রেলওয়ে, শিপিং কোম্পানি, এয়ারলাইনস, জলপথ ও সড়ক পরিবহনের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবে সংস্থাটি। পর্যটন সংক্রান্ত গবেষণা পরিচালনা, সাহিত্য প্রকাশনা, বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের উদ্দেশে দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরা, পর্যটনের বিকাশের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও রাজস্ব বৃদ্ধি, সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে বিদেশের সঙ্গে পর্যটন সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদন, বিনোদন কেন্দ্র অধিগ্রহণ, প্রতিষ্ঠা, নির্মাণ ও আয়োজন এবং অভ্যন্তরীণ পর্যটনে উৎসাহ প্রদানে কাজ করবে বিপিসি।
