নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ

রিমান্ড শেষে তিতাসের ৮ কর্মকর্তা কর্মচারীর জামিন

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৪৯ এএম

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহতের মামলায় গ্রেপ্তার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের চার কর্মকর্তাসহ আটজনের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। দুদিনের রিমান্ড শেষে ওই আটজনকে গতকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাবুজ্জামানের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে জানান, দুদিনের রিমান্ড শেষে তিতাসের আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গতকাল বিকেলে আদালতে পাঠায় মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে ৫০০ টাকার বন্ডে মামলার পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।

জামিন পাওয়া তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন কোম্পানির নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা জোনের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান রাব্বী, সহকারী প্রকৌশলী এসএম হাসান শাহরিয়ার, সহকারী প্রকৌশলী মানিক মিয়া, সিনিয়র সুপারভাইজার মনিবুর রহমান চৌধুরী, সিনিয়র উন্নয়নকারী আইউব আলী, সাহায্যকারী হানিফ মিয়া ও ওয়েল্ডার ইসমাইল প্রধান।

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনার পর ৭ সেপ্টেম্বর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে তিতাস। এরপর গত শনিবার রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এই আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদিনের রিমান্ডে নেয় সিআইডি। এ মামলায় গ্রেপ্তার আরেক আসামি বিদ্যুৎমিস্ত্রি মোবারক হোসেনের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও তিনজন। বিস্ফোরণের ঘটনায় তিতাস গ্যাস কোম্পানি, জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস গঠিত তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে তাদের আলাদা আলাদা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে উৎসারিত আগুন এবং তিতাসের গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে মসজিদের অভ্যন্তরে জমা হওয়া গ্যাস থেকে বিস্ফোরণটি হয়েছে বলে এসব তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিস্ফোরণের ঘটনার পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করা হলেও সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিতরণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত