দশম শ্রেণির ছাত্রী নীলা রায়কে (১৪) কুপিয়ে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। গত রবিবার রাত ৯টার দিকে সাভার পৌর এলাকার কাজী মোকমাপাড়া মহল্লায় রিকশা থেকে নামিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় নীলাকে। স্বজনরা বলছেন, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মিজানুর রহমান চৌধুরী (২২) নামে এক যুবক তাকে হত্যা করেছে। এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মিজানুর কিশোর গ্যাং সদস্য।
রবিবার রাতে অসুস্থ স্কুলছাত্রী নীলা ভাইয়ের সঙ্গে রিকশাযোগে হাসপাতাল থেকে ফিরছিল। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা নারায়ণ রায় মিজানুর, তার বাবা আবদুর রহমান ও মা আয়েশা সিদ্দিকা নামজুন নাহারের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন।
সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স) নির্মল কুমার দাস বলেন, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত দেখে মনে হচ্ছে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তাই ডিএনএ টেস্ট করতে বলা হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পেলেই জানা যাবে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে মিজানুরকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। জানা গেছে, বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে পুলিশের পাশাপাশি ঘটনাটির ছায়া তদন্তে নেমেছে সিআইডি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সিআইডি ঘটনাস্থল ও এর পাশ থেকে তারা বিভিন্ন আলামতও সংগ্রহ করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, স্থানীয় সাকিব এই এলাকার কিশোর গ্যাং সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তার সঙ্গে মিজানুরের সখ্য রয়েছে। তারা উভয়ে মিলে ওই এলাকার কিশোর গ্যাং এবং বিভিন্ন মাদক স্পট পরিচালনা করে। এখানে প্রতিদিনই জমজমাট মাদকের আসর বসে।
নীলার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার বালিরটেক গ্রামে। সে পরিবারের সঙ্গে পৌর এলাকার কাজী মোকমাপাড়া মহল্লার শীতল ভিলায় ভাড়া থেকে স্থানীয় অ্যাসেড স্কুলে পড়ত।
