সহসাই হচ্ছে না জেলা কমিটি

অন্য দলের জনপ্রিয় নেতাদের নেবে আ.লীগ

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৩৭ এএম

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক জেলার নতুন কমিটিগুলো সহসাই অনুমোদন পাচ্ছে না। ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে কেন্দ্রে জমা পড়া এবং জমা পড়তে যাওয়া কমিটিগুলো যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন পেতে অন্তত তিন মাস সময় লাগতে পারে। কোনো জেলায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিরোধ থাকলে দুজনকেই সরিয়ে দিয়ে নতুনদের দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর জামায়াত ছাড়া অন্য দলের জনপ্রিয় কোনো নেতা দলে যুক্ত হতে চাইলে তাকে নেওয়া যাবে। তবে তাকে সদস্য ছাড়া কমিটিতে অন্য কোনো পদে রাখা যাবে না।

কেন্দ্রীয় নেতারা আরও বলেন, জেলা কমিটিগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৮ বিভাগে ৮টি কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় সভাপতি। সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য, একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদকমণ্ডলীর আরেক সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিয়ে ওই কমিটি হবে পাঁচ সদস্যের। ওই কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে জমা দেওয়ার পর অনুমোদন পাবে জেলা কমিটি। পাঁচ সদস্যের ওই কমিটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। অনুমোদন পাওয়ার পর জমা পড়া জেলা কমিটি যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু করবে তারা। ওই কমিটি সারা দেশ সফর করে তৃণমূলে দলের বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন না হওয়া ইউনিটগুলোতে সম্মেলন আয়োজনের ব্যবস্থা নেবে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাংগঠনিক জেলার জমা পড়া কমিটিগুলো অনুমোদন পেতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে। যেসব কমিটি জমা পড়েছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। এ জন্য ৮ বিভাগে ৮টি কমিটি করা হবে। ৫ সদস্যের ওই কমিটি এ কাজ করবে। এখনো ওই কমিটি দলীয় সভাপতির অনুমোদন পায়নি। অনুমোদন পাওয়ার পর কমিটি যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু করবে।’

জমা পড়া কমিটিগুলো নিয়ে কী ধরনের যাচাই-বাছাই হবে জানতে চাইলে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য বলেন, ‘প্রথম শর্ত হলো জেলা কমিটিতে থাকতে হলে কমপক্ষে পাঁচ বছর দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। এমপি-মন্ত্রী ও জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সন্তান বলেই কাউকে বড় পদ দেওয়া হচ্ছে কি না তা দেখা হবে। অবশ্য রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলে তাদের পদে থাকতে কোনো বাধা নেই। জামায়াতের কোনো স্তরের নেতাকর্মী কমিটিতে ঢুকে পড়ল কি না তা কঠোরভাবে দেখা হবে। তবে অন্য দল থেকে জনপ্রিয় কোনো নেতা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চাইলে এবং তাকে নেওয়া হলে দল শক্তিশালী হবে, এক্ষেত্রে তাকে কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা যাবে। কিন্তু অন্য কোনো পদে তাকে রাখা যাবে না। এছাড়া প্রভাবশালী নেতৃত্বের রোষানলে পড়ে দলের কোনো যোগ্য নেতা পদহারা হচ্ছেন কি না, যাচাই-বাছাইয়ে তা দেখা হবে কঠোরভাবে। মূলত এগুলোই নিয়ে পাঁচ সদস্যের ওই কমিটি কাজ করবে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে দলের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভায় একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যাপারে পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখা যায়, ওই ইউনিয়নের প্রার্থী দুজনই সভাপতি। দলীয় সভাপতি এ বিষয়ে বোর্ডের সদস্যদের কাছে জানতে চাইলে একজন বলেন, ‘নেত্রী ওখানে দুটি কমিটি।’ এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুটি কমিটি যেখানে আছে সব বাতিল করে দিতে হবে। সেখানে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে। তৃণমূলের কোনো স্তরেই রাজনীতিতে গ্রুপিং-বিভক্তি এসব দেখতে চাই না। যেখানেই দুটি কমিটি আসবে সেখানেই নতুন কমিটি হবে।’

কেন্দ্রীয় ওই নেতা আরও বলেন, ‘সভাপতিমণ্ডলীর সভা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জেলা-উপজেলায় বিভক্তির রাজনীতি আর হবে না। তৃণমূলে যেসব জেলায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিভক্তি রয়েছে তাদের দুজনকেই বাদ দেব। সেখানে নতুন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হবে। কোনোভাবেই বিভক্তির রাজনীতি চলবে না।’    

গত বছর ২৬ অক্টোবর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালে আওয়ামী লীগের ৩১ জেলায় সম্মেলন হয়। এর কোনোটিতেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দিয়ে কাজ চলছে। সর্বশেষ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে, সাংগঠনিক জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ খসড়া কমিটি জমা দিতে বলা হয়। সবাইকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কমিটি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিভক্ত কোনো কমিটি কেন্দ্র জমা নেবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ নির্দেশের কারণে অনেক সাংগঠনিক জেলা বিপদে পড়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হলেও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের কারণে অনেক কমিটি জমা পড়তে বিলম্ব হচ্ছে।

কেন্দ্রে জমা পড়া কমিটি সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বেশিরভাগ কমিটি কেন্দ্রে জমা পড়েছে। বাকি যেগুলো এখনো জমা পড়েনি আশা করছি আগামী ৩ অক্টোবর আমাদের দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভার আগেই জমা হয়ে যাবে।’    

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত