রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে প্রতিশ্রুতি পূরণ না করায় মিয়ানমারের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত টমাস অ্যান্ড্রুস।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের জন্য ন্যায়বিচার কোথায়? আর তাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অপরাধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে যে সেনাবাহিনীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে সেই সেনাবাহিনীর জন্যই তাদের ভূমিতে স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে।”
রোহিঙ্গাদের ‘প্রত্যাবাসন শুরু আমাদের অগ্রাধিকার’ বলে মিয়ানমার গত সপ্তাহে মানবাধিকার কাউন্সিলে যে বক্তব্য দিয়েছে তার জের ধরে অ্যান্ড্রুস প্রশ্ন করেন, “তবে যারা এক সময় কান কায়াতে বাস করতেন তাদের জন্য প্রত্যাবাসনের মানে কী হবে? তারা কীভাবে তাদের জন্মস্থানের অংশ হবেন যেখানে জায়গাটি সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে?”
বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলায় ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে এবং গত তিন বছরে কেউই দেশে ফেরেননি। অ্যান্ড্রুস বলেন, “দায়মুক্তি এবং মানবাধিকারের সহাবস্থান থাকতে পারে না।”
২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ ও অন্যান্য অপরাধ বিষয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দুই দলত্যাগী সদস্য সম্প্রতি এসব ঘটনার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
সেই ভিডিওটেপের উদ্ধৃতি দিয়ে অ্যান্ড্রুস মিয়ানমার সরকারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থাকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
