রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তি থেকে মিম নামে চার বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বস্তির একটি গোসলখানা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। পুলিশ জানিয়েছে, কে বা কারা শিশুটিকে হত্যা করেছে তা জানার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত শিশুটি হত্যা করার মতো কোনো কারণ তারা খুঁজে পাননি।
বনানী থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম জানান, গতকাল সকালে মিম ও তার বড় ভাই আল-আমিন বাসায় ছিল। বাবা-মা কাজে চলে গিয়েছিলেন। সকাল ৮টা থেকে মিমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর এলাকার মসজিদে মাইকিং করা হয়। অনেকক্ষণ পরে গোসলখানায় গিয়ে মিমের লাশ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। শিশুটির গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হতে পারে বলে পুলিশের ধারণা।
শিশুর বাবা লিটন মিয়া জানান, নুসরাত জাহান মিমের বয়স ৪ বছর। তাদের বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা সিংড়াপুর গ্রামে। কড়াইল বস্তির জামাইবাজার হেমেলার বাড়িতে একটি রুম নিয়ে ভাড়া থাকেন। এই বাড়িতে ৪ বছর ধরে আছেন তারা। সকালে একই বিছানায় ছেলে আল আমিন (১৪), মিম ও মিমের মাসহ ৪ জনই শুয়ে ছিলেন। ৭টার দিকে মিমের মা রোকসানা বাসাবাড়িতে কাজে চলে যায়। এরপর সাড়ে ৭টার দিকে ছেলে আল আমিনও মাদ্রাসায় যায়। ৮টার দিকে আল আমিন বাসায় এলে তিনি বাইরে গিয়ে দাঁত ব্রাশ করেন।
তিনি বলেন, সোয়া ৯টার দিকে তাদের বস্তির একটি গোসলখানায় গোসল করছিল বর্ষা (১৫) নামে এক মেয়ে। সে গোসল শেষ করে তার রুম থেকে কাপড় নিয়ে আবার গোসলখানায় গেলে মিমকে পড়ে থাকতে দেখে। তখনই সে সবাইকে ডাকলে মিমের লাশ দেখতে পাই। তার গলায় হাতের ছাপ, মুখে দাগ রয়েছে।
ঢাকা মেডিকেলের মর্গে মিমের মা রোকসানা আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘কাইল রাইতে আমার মাইয়ারে কই কী খাইবা মা? মায়ে বলে, তুমি যা দিবা তাই খামু। তহন আমি ওরে বিস্কেট খাওয়াই, আমিও ঘুমের মধ্যেই একটা খাই। ওইটাই আমার মাইয়ার শেষ খাওয়া। আর তো দুনিয়ার আলো দেখার পারল না আমার মাইয়া। ঘুমে থিকাই তো উঠে নাই।’
রোকসানা আরও বলেন, আমাদের কারোর সঙ্গে কোনো ঝামেলা নাই। তবে সোমবার বাসা থেকে আমার ৫শ টাকা হারায়। এই নিয়ে বস্তিতে আশপাশের ভাড়াটিয়াদের বলেছি, আমার টাকা কে নিয়েছে জানি না তবে টাকা তাড়াতাড়ি না দিয়ে দিলে সবাইকে চাউল পড়া খাওয়ানো হবে। এছাড়া আর কারোর কোনো ঝামেলা হয়নি।
শিশুটির মৃতদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, আপাতদৃষ্টিতে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তার ভিসেরা, নেকটিস্যু-সহ কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলোর রিপোর্ট এলে আমরা চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেব। তবে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতনের আলামত পাইনি।
