প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে করোনা সংকটেও অর্থনীতির চাকা সচল আছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ পদক্ষেপের কারণে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এশিয়ার প্রায় সব দেশের উপরে।’ গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এশিয়ার প্রায় সব দেশকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। এই করোনাকালেও এডিবির প্রাক্কলন অনুযায়ী আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৫.২ শতাংশ। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে ৮ শতাংশ, করোনা না থাকলে সেটি করা সম্ভবপর হতো।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ০.৯, পাকিস্তানের ঋণাত্মক ০.৪, শ্রীলঙ্কার ঋণাত্মক ৫.৫, চীনের ১.৮, থাইল্যান্ডের ঋণাত্মক ৮, ফিলিপাইনের ঋণাত্মক ৭.৩, সিঙ্গাপুরের ঋণাত্মক ৬.২।’
করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ তুলনামূলক সফল উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সব শঙ্কা-আশঙ্কা মিথ্যা প্রমাণ হলো। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্ব, সময়োচিত পদক্ষেপ, মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা, খাদ্য সহায়তা, অর্থনীতিকে বাঁচানোর জন্য অর্থনৈতিক প্রণোদনা ঘোষণা এবং বাস্তবায়নের কারণে দেশে সাড়ে ছয় মাসে অনাহারে একজন মানুষেরও মৃত্যু হয়নি।’ তিনি আরও বলেন,‘ খাদ্যের জন্য কখনো কোথাও হাহাকার হয়নি। শেখ হাসিনা মানুষকে এই দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করেছেন। আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মীকে সম্পৃক্ত করেছেন। তার আহ্বানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই দুর্যোগ মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।’
বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যুহার তুলনামূলক কম উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১.৪, ভারতে ১.৬, পাকিস্তানে ২.০৯, যুক্তরাজ্যে ১০.৩৬, বেলজিয়ামে ৯.৪৬, ফ্রান্সে ৬.৭১, জার্মানিতে ৩.৪২ ও যুক্তরাষ্ট্রে ৩ শতাংশের মতো। বাংলাদেশে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার আরও কম হতো, যদি আরও ব্যাপকভাবে মানুষ পরীক্ষা করত। অর্থাৎ করোনা মোকাবিলা করার ক্ষেত্রেও আমরা অনেক দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে আছি।’
শীতকালে করোনা প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি অনুরোধ জানাব, আমরা যেন এই ধারণায় না ভুগি যে করোনা চলে গেছে। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে করোনা এখনো আছে এবং শীতকালে সেটি বাড়তে পারে এবং স্বাস্থ্যবিধি আমাদের সবার মেনে চলা প্রয়োজন।’ করোনাকালে সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে মৃত্যুবরণকারী সাংবাদিকদের আত্মার শান্তি ও আক্রান্তদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তথ্যমন্ত্রী।
