জনবহুল দেশ হয়েও করোনা রোগীদের চিকিৎসায় বাংলাদেশ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, ‘বলা হয়েছিল সেপ্টেম্বরে আমাদের দেশে হাজার হাজার রোগী মারা যাবে। কিন্তু আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য তেমন কিছুই হয়নি। দেশে করোনা রোগীর সুস্থতার হার ৭৫ শতাংশ। করোনা আক্রান্ত কোনো রোগী সেবা পায়নি এমন কোনো নজির নেই।’ গতকাল বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু পাঁচ হাজার ছাড়ানোর এক দিন পর মন্ত্রী এমন মন্তব্য করলেন। এদিন মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঢামেক হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং শিক্ষা সম্প্রসারণমূলক ২৩টি কাজের উদ্বোধন করেন জাহিদ মালেক।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাসের জন্য দেশে ১৫-২০ হাজার করোনা বেড করা হয়েছিল, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড ছিল ঢাকা মেডিকেলে। এখানে সেবাও বেশি পেয়েছে রোগীরা। বাইরের দেশের মতো কোনো রোগীকে তাঁবুতে থাকতে হয়নি। আমার দেশের চিকিৎসা প্রটোকল বিশ্বমানের হওয়ায় হাজার হাজার লোক বেঁচে গেছে। তাই চিকিৎসক, নার্সসহ সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। সবার প্রচেষ্টার কারণেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।’
ভ্যাকসিনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে দেশের ভ্যাকসিন সবচেয়ে ভালো ও কার্যকর হবে আমরা সেই দেশ থেকেই ভ্যাকসিন গ্রহণ করব। সঠিক সময়ে সঠিক ভ্যাকসিন যাতে পাই সেই অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।’
জাহিদ মালেক বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপে অনেক দেশে করোনাঝুঁকি বাড়ছে। আমাদের দেশে অনেক লোক এখন স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলাফেরা করছে। কিন্তু আমাদের সজাগ থাকতে হবে। শীতকালে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। এ সময় বেশি সামাজিক অনুষ্ঠান হয়। এতে করোনাঝুঁকি বাড়তে পারে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লকডাউন একটি জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। আবার লকডাউনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’ স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি যেখানে আছে সেখানেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
