করোনাকালের ২০০ দিন

শেষ ১০০ দিনে তিনগুণ শনাক্ত ও মৃত্যু

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৩১ এএম

করোনাকালের ২০০ দিন অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গত ১৫ জুন একশ দিন পূর্ণ হয়। গতকাল বুধবার ছিল ২০০তম দিন। শনাক্ত ও মৃত্যু বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শেষ ১০০ দিনে প্রথম ১০০ দিনের তুলনায় তিনগুণ শনাক্ত ও মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে শেষ একশ দিনে সুস্থও হয়েছে প্রায় ৭ গুণের কাছাকাছি। যদিও শেষ একশ দিনে পরীক্ষা তিনগুণের কম হয়েছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম একশ দিনে ৫ লাখ ১৬ হাজার ৫০৩ পরীক্ষার বিপরীতে শেষ একশ দিনে পরীক্ষা হয়েছে ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ১৩৪ পরীক্ষা। প্রথম একশ দিনে রোগী শনাক্ত হয় ৯০ হাজার ৬১৯ জন। দ্বিতীয় একশ দিনে শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার ২২৫ জন। আর প্রথম একশ দিনে ১ হাজার ২০৯ মৃত্যুর বিপরীতে শেষ একশ দিনে মৃত্যু হয় ৩ হাজার ৮৩৫ জনের। প্রথম একশ দিনে ৩৪ হাজার ২৭ জনের বিপরীতে শেষ শতকে সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ২৮ হাজার ৯২৬ জন।

এদিকে দেশে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে করোনাভাইরাসে নতুন শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়েছে। গত মঙ্গলবার দেশে করোনায় মোট মৃত্যু ৫ হাজার ছাড়ানোর পর গতকাল দেশে আরও ৩৭ রোগীর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর এই সংখ্যা আগের ২৪ ঘণ্টার চেয়ে ৯ জন বেশি। অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ৬৬৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্তের এই সংখ্যাও আগের দিনের চেয়ে বেশি। এদিন রোগী শনাক্তের হারও আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে। গত মঙ্গলবার ১৪১ দিন পর শনাক্তের হার ১১ শতাংশের নিচে নেমেছিল। গতকাল তা আবার বেড়ে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশে উঠেছে।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত গতকালের করোনাবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশে বর্তমানে ১০২টি পরীক্ষাগারে করোনার পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১৩ হাজার ৯৭৭টি নমুনা সংগৃহীত হয়। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ১৪ হাজার ১৫০টি। এসব পরীক্ষায় ১ হাজার ৬৬৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হন। একই সময়ের মধ্যে আরও ৩৭ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ হাজার ১৬৩ রোগী সুস্থ হয়েছেন।

এতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত ১৮ লাখ ৬২ হাজার ৬৩৭টি নমুনা পরীক্ষায় ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৫ হাজার ৪৪ এবং সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৬২ হাজার ৯৫৩ জন। বাকিরা এখনো চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে, তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৯ শতাংশ হারে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৩ ও সুস্থতার হার ৭৪ দশমিক ৩১ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২৪ ও নারী ১৩ জন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৩ জন ঢাকা বিভাগের, ৫ জন করে দশজন চট্টগ্রাম ও খুলনার, ২ জন রাজশাহী এবং ১ জন করে মোট দুজন বরিশাল ও সিলেট বিভাগের। মৃতদের মধ্যে ১৯ জনই ষাটোর্ধ্ব বয়সী। বাকিদের মধ্যে ৫১-৬০ বছরের ১২, ৪১-৫০ বছরের ৩, ৩১-৪০ বছরের ২ এবং এবং ০-১০ বছরের শিশু ছিল ১টি। হাসপাতালে মারা গেছে ৩৫ এবং বাড়িতে ২ জন।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ৯১৪ ও নারী ১ হাজার ১৩০ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৭ দশমিক ৬০ ও নারী ২২ দশমিক ৪০ শতাংশ। বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪৯০ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৪৪, খুলনায় ৪২৫, রাজশাহীতে ৩৩৪, রংপুরে ২৩৫, সিলেটে ২২৩, বরিশালে ১৮৬ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১০৭ জন মারা গেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত