কক্সবাজারে একযোগে ১৩০০ পুলিশ বদলি

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৩৮ এএম

কক্সবাজার জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বদলির পর এবার আরও ১৩০৯ কর্মকর্তা ও সদস্যকে একযোগে বদলির আদেশ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার পুলিশ সদর দপ্তর এবং পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ থেকে আলাদা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব পুলিশ সদস্যকে ভিন্ন রেঞ্জে বদলির আদেশ জারি করা হয়। কক্সবাজারে পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে নতুন এই রদবদল হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন।

নতুন বদলি হওয়াদের মধ্যে কক্সবাজারের আটটি থানাসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা ১৩৯ এসআই, ৯২ এএসআই এবং ১ হাজার ৫৫ জন নায়েব ও কনস্টেবল রয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বদলি করা হয়েছিল ৫৩ পরিদর্শককে। গতকাল পর্যন্ত বদলির আদেশ পাওয়া পুলিশ সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৪৭ জনে। এর মধ্যে রয়েছেন পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ আট শীর্ষ কর্মকর্তা, ৫৩ জন পরিদর্শক, ১৩৯ জন উপ-পরিদর্শক (এসআই), ৯২ জন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এবং ১ হাজার ৫৫ জন নায়েব ও কনস্টেবল। তাদের সবাইকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের বাইরে ভিন্ন রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।

জানা গেছে, বদলি হওয়া শূন্য পদ পূরণে গতকাল চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে যোগ দিয়েছেন ৮ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ৩৭ জন পুলিশ পরিদর্শক, ৮৫ জন এসআই ও এএসআই এবং ৭৩৪ জন কনস্টেবল। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কক্সবাজার জেলা পুলিশে সম্পূর্ণ নতুন জনবল যোগদান করবে বলেও জানা গেছে।

কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান নিহতের পর এ রববদল হচ্ছে। সিনহা নিহতের ঘটনায় সমালোচনার মধ্যে কক্সবাজারের আগের পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেনকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়। তার জায়গায় এসপি হিসেবে মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানকে নিয়ে আসা হয় ঝিনাইদহ থেকে। তিনি গত বুধবার কক্সবাজারের এসপির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরও আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর বদলি করা হয়েছিল কক্সবাজার জেলা পুলিশের অপর শীর্ষ সাত কর্মকর্তাকে।

নতুন রদবদলের বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কক্সবাজার জেলা পুলিশের এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল মিলে আজ (শুক্রবার) ১৩০৯ জনের বদলির আদেশ এসেছে। পুলিশ সদর দপ্তর এবং পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আদেশ জারি করা হয়েছে। জেলা পুলিশে পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট যারা থাকবেন তাদেরও বদলির আদেশ আসতে পারে। শেষ পর্যন্ত বদলির সংখ্যা ১৪ শতাধিক পর্যন্ত হতে পারে।’

রদবদল শুরু হওয়ার আগে কক্সবাজার জেলা পুলিশে কনস্টেবল থেকে শুরু করে এসপি পর্যন্ত সর্বশেষ ১৫শ’ সদস্য কর্মরত ছিলেন বলেও জানান এসপি হাসানুজ্জামান।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কক্সবাজার জেলা পুলিশকে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হচ্ছে। আর এজন্য কক্সবাজারে দায়িত্ব পালন করা শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত সকলকেই বদলি করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু কক্সবাজার নয়, আমার রেঞ্জ এলাকায় যদি পুলিশের কোনো সদস্য কোনো ধরনের অপরাধ বা মাদকের কারবার বা মাদক সেবনে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা জনগণের পুলিশ। জনগণের সেবা দেওয়াটাই হবে প্রধান কাজ। কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর শুধু কক্সবাজার নয় সারা দেশেই পুলিশকে ঢেলে সাজানা হচ্ছে। যারা একই স্থানে দুই বছরের বেশি সময় ধরে রয়েছেন, তারা সে জায়গায় বা ঘুরেফিরে একই ইউনিট, একই রেঞ্জ বা একই থানায় থাকতে পারবেন না। এটা কক্সবাজারের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। কক্সবাজারের পুলিশ সদস্যদের বদলির মাধ্যমে দেশের সব জায়গার প্রতিটি পুলিশ সদস্যের কাছে কঠোর বার্তা পৌঁছে গেছে।’

কক্সবাজার পুলিশে রদবদলের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) ড. মইনুর রহমান চৌধুরী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ রোডে বাহারছড়া পুলিশ চেকপোস্ট পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। ওই ঘটনায় সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার দায়ের করা হত্যা মামলায় টেকনাফের বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকতসহ ১১ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তারের পর কারাগারে রয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত