দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে প্রায় সারা দেশেই বৃষ্টি পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের কিছু জায়গায় গতকাল শুক্রবার অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ১৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে নীলফামারীর ডিমলায়। দেশের প্রধান চারটি সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত জারি থাকায় বন্দর ও সংশ্লিষ্ট উপকূলীয় এলাকাগুলোতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। মোংলায় পণ্য ওঠানামা ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আজও বৃষ্টি হতে পারে সারা দেশেই। তবে আগামীকাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান খান গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে সারা দেশেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ অবস্থা শনিবারও (আজ) অব্যাহত থাকতে পারে। রবিবার থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমবে। তবে একেবারে থেমে যাবে না। বৃষ্টি কমলে তাপমাত্রাও কিছুটা বাড়তে পারে।’ দেশে প্রধান চারটি সমুদ্রবন্দরে গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ নম্বর স্থানীয় সংকেত জারি আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শনিবার (আজ) বিকেলের দিকে সংকেত নামিয়ে ফেলা হতে পারে।’
গতকাল সারা দেশেই কমবেশি বৃষ্টি হওয়ার তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সারা দেশে অধিদপ্তরের ৪৩টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের প্রায় সবগুলোতেই এদিন বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। বেশি বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টা সবচেয়ে বেশি ১৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে নীলফামারীর ডিমলায়। এছাড়া চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ১৪৬ মিলিমিটার ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১১৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রামে ৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে রাজধানীতে ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা ঢাকা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। বৃষ্টির কারণে দেশের তাপমাত্রাও সহনীয় মাত্রায় রয়েছে। গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে টাঙ্গাইলে ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে সন্দ্বীপ ও সীতাকু-ে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আজকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের সব বিভাগেই বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, মোংলায় পণ্য ওঠানামা ব্যাহত : কয়েক দিন ধরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে দেশে অন্যতম সমুদ্রবন্দর মোংলা ও আশপাশের এলাকায়। ফলে বন্দরে পণ্য ওঠানামা ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় ও গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টির কারণে মোংলা বন্দরে গতকালও তিন নম্বর সংকেত বহাল ছিল। ফলে বন্দরসহ সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা জুড়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া। সতর্ক সংকেত বলবৎ থাকায় গত কয়েক দিন ধরে বন্দরে অবস্থানরত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য বোঝাই-খালাস ও পরিবহনের কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে।
বন্দর ব্যবহারকারী এইচ এম দুলাল বলেন, বৃষ্টিপাতের কারণে সার ও মেশিনারি পণ্যবোঝাই তার দুটি জাহাজে গত ৩-৪ দিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে ক্যাপ্টেন জাহাজের হ্যাজ খুলতে না দেওয়ায় পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। ফলে শ্রমিক-কর্মচারীদের জাহাজে বেকার বসিয়ে রেখে বেতন দিতে হচ্ছে। তবে বন্দরের সব কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছেন বন্দর কর্র্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত হারবার মাস্টার প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন) কমান্ডার জাহিদুর রহমান। গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, বন্দরে সার, কিংক্লার, মেশিনারি, পাথর ও গ্যাসসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ১০টি জাহাজ অবস্থান করছে। এছাড়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া নৌকা ও ট্রলার নিরাপদে ফিরে এসে উপকূলের কাছাকাছি নদী খালসহ মোংলার বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়েছে।
