আমরা ভবিষ্যতের কথা ভুলে যাই

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:২৬ এএম

অল্প বয়সে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক। এবারই প্রথম সরকারি অনুদানের সিনেমায় কাজ করতে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

অনুদানের সিনেমায়...

এর আগেও সরকারি অনুদানের সিনেমায় কাজের প্রস্তাব পেয়েছিলাম। কিন্তু নানা কারণে করা হয়নি। এমনকি এবার যে কয়টি সিনেমা সরকারি অনুদান পেয়েছে সেখান থেকেও একাধিক সিনেমার ব্যাপারে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। অবশেষে ‘দায়মুক্তি’র গল্প ও চরিত্র আমার খুব ভালো লেগেছে। তাই কাজটি করছি। ছবিটি নির্মাণ করছেন কমল সরকার। আর সার্বিক দায়িত্বে আছেন জনপ্রিয় নির্মাতা বদিউল আলম খোকন। আমার নায়িকা সুস্মি রহমান। পুরো টিমটিই আমার জন্য নতুন। তবে পরিচালক ভালো হলে একটি সিনেমা ভালো হয়ে ওঠে। আশা করছি কাজটি ভালো হবে। আগামী মাসের ১০ তারিখ থেকে ঢাকায় শ্যুটিং শুরুর কথা রয়েছে।

‘দায়মুক্তি’...

এটি মূলত বৃদ্ধাশ্রমের একটি গল্পকে উপজীব্য করে নির্মিত হচ্ছে। এতে আমি বিদেশ থেকে পড়াশোনা করে দেশে ফিরি। আমার পরিবারেরই একজনকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখা হয়। এই সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে গল্প এগিয়ে যাবে। সিনেমাটি করার সবচেয়ে বড় কারণ হলো, এর মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দর্শকের মাঝে পৌঁছে দিতে পারব। সেটি হলো আমরা ভবিষ্যতের কথা ভুলে যাই। সাময়িক সুবিধা বা অবহেলাবশত পরিবারের বয়স্ক মানুষদের প্রতি অন্যায় করি। তাদেরকে প্রিয়জনদের থেকে আলাদা করে দূরের কোনো বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসি। কিন্তু তারা এই সময়টা কত কষ্টে পার করেন তা আমরা বুঝতে চাই না। আমরাও একদিন বৃদ্ধ হব, শরীরের জোর কমে যাবে, অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ব। তখন আমাদের ভাগ্যেও এমন দুর্দশা হতে পারে। তাই এখনই সবার বোঝা উচিত, পরিবারের বয়স্করা আমাদের অভিভাবক, আমাদের জন্য আশীর্বাদ। তাদের অবহেলা না করে বরং দ্বিগুণ যতœ আর ভালোবাসা দেওয়া দরকার।

ভাবনায় পরিবর্তন...

এত অল্প বয়সে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্জন আমাকে কাজের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল করে। তাই ভেবেছিলাম এখন থেকে সিনেমা নির্বাচনের ক্ষেত্রে শতভাগ যাচাই বাছাই করব। কিন্তু করোনা আমার সেই ভাবনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। এখন সিনেমার অবস্থা আসলেই শঙ্কাজনক। সেভাবে নতুন সিনেমা নির্মিতও হচ্ছে না। তাই এখন যদি এত বাছ বিচার করতে যাই তাহলে হয়তো কাজই খুব একটা করা হবে না। তাই ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে কিছুটা ছাড় দিয়েই কাজ করতে হবে। আবার সব ঠিক হয়ে গেলে কাজের মানও বাড়বে।

ছেলের জন্মদিনে...

গতকাল ছিল আমার ছোট ছেলের জন্মদিন। আদর করে আমরা তাকে ডাকি ‘টুকটুক’। এক বছর পূর্ণ করল সে। পারিবারিকভাবেই দিনটি কাটিয়েছি। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন যেন সে একজন ভালো মনের মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত