সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ও র্যাবকে নির্দেশ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। গতকাল শনিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শফিউল আলম জুয়েল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির আওতায় আনার জন্য সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া এবং র্যাব-৯-এর কমান্ডার লে. কর্নেল আবু মুসা মো. শরীফুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ধর্ষক যে দলের হোক, শাস্তি অবশ্যই পেতে হবে। একজন গৃহবধূকে ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠের ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ করে তারা কলেজকে কলুষিত করেছে। যার কারণে তাদের কোনো ছাড় নেই।
গত শুক্রবার বিকেলে স্বামীর সঙ্গে এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। ধর্ষণের শিকার হওয়া নারী ওসমানী হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় গতকাল ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত দু-তিন জনের বিরুদ্ধে শাহপরান থানায় মামলা করেন নির্যাতিত গৃহবধূর স্বামী।
এদিকে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, একটা সময় এ দেশে শিক্ষার্থীদের সেশনজট লেগে থাকত। এখন সব পরীক্ষা টাইমলি হয়। দেশে এখন ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারেন। এখন হরতাল-অবরোধের ঝামেলা তাদের নেই। আমরা আশা করি ২০৪১ সালের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন অর্জন করতে পারব। শেখ হাসিনা যদি জীবিত না থাকতেন আমাদের এই আশা কখনো পূরণ হতো না। তিনি আছেন বলেই বাংলাদেশে গরিবের মুখে হাসি ফুটেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে খুন করলেও তার বিচার হবে না এ ধরনের আইন এই দেশের পার্লামেন্টে গৃহীত হয়েছিল। দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধুকন্যা সরকারে আসার ফলে সেই ঘৃণিত আইন দূর করা হয়। আমাদের দেশে যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় সেই জিনিসটি প্রতিষ্ঠিত হয়। আপনি যে দলেরই হোন না কেন কেউ যে আইনের ঊর্ধ্বে নয় সেটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশের সব গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ দিয়েছেন। শেখ হাসিনা আছেন বলেই আপনারা ঠিকঠাকভাবে কাজ করতে পারছেন। দেশের সব মিডিয়া খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এতগুলো প্রাইভেট টিভি দেশে চলছে। আর সেটা সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার জন্য।
