শেষ সপ্তাহে মৃত্যু বেড়েছে শনাক্ত কমেছে

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৫১ এএম

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে শেষ এক সপ্তাহে পরীক্ষা ও নতুন রোগী শনাক্ত কমেছে। তবে একই সময়ে মৃত্যু বেড়েছে এবং সুস্থ কমেছে। আগের সপ্তাহে ২১১ মৃত্যুর বিপরীতে শেষ সপ্তাহে মারা গেছে ২১৬ জন। গতকাল রবিবার দেশে করোনা শনাক্তের ২০৪তম দিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এদিন বিজ্ঞপ্তিতে শেষ দুই সপ্তাহের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, শেষ সপ্তাহে (২০-২৬ সেপ্টেম্বর) পরীক্ষা কমেছে ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং শনাক্ত কমেছে ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। এছাড়া সুস্থ কমেছে ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ ও মৃত্যু বেড়েছে ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

এদিকে দেশে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩২ জন রোগী মৃত্যুবরণ করেছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর, যার মধ্যে ২০ জনই ঢাকা বিভাগের এবং ২৩ জন ষাটোর্ধ্ব। এছাড়া একই সময়ের মধ্যে দেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৭৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন সাড়ে ১০ হাজারের কিছু বেশি পরীক্ষা হয়। এসব পরীক্ষায় ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়। অন্যদিকে গতকাল দেশে সর্বমোট নমুনা পরীক্ষা ১৯ লাখ ছাড়িয়েছে।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত গতকালের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন আরও একটি প্রতিষ্ঠানে করোনার পরীক্ষা চালু হয়েছে। এ নিয়ে সারা দেশে বর্তমানে ১০৫টি পরীক্ষাগারে করোনার পরীক্ষা চলমান। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১০ হাজার ২৬১টি নমুনা সংগৃহীত হয়। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ১০ হাজার ৬৮৫টি। এসব পরীক্ষায় ১ হাজার ২৭৫ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। একই সময়ের মধ্যে আরও ৩২ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৭১৪ রোগী সুস্থ হয়েছে।

এতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত ১৯ লাখ ৯ হাজার ৪৬০টি নমুনা পরীক্ষায় ৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৪৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৫ হাজার ১৬১ এবং সুস্থ হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৯১ জন। বাকিরা এখনো চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে, তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৮ দশমিক ৮১ শতাংশ হারে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৪ ও সুস্থতার হার ৭৫ দশমিক ৩১ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২২ জন ও নারী ১০ জন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২০ জন ঢাকা বিভাগের, ৫ জন চট্টগ্রাম, ৪ জন খুলনা, ২ জন সিলেট এবং ১ জন রাজশাহী বিভাগের। মৃতদের মধ্যে ২৩ জন ষাটোর্ধ্ব বয়সী। বাকিদের মধ্যে ৫১-৬০ বছরের ৬, ৪১-৫০ বছরের ১ ও ৩১-৪০ বছরের ২ জন। এদিন ৩২ জনের সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ৯৯৬ জন ও নারী ১ হাজার ১৬৫ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৭ দশমিক ৪৩ ভাগ ও নারী ২২ দশমিক ৫৭ ভাগ। বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫৬৬ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৬৫, খুলনায় ৪৩৩, রাজশাহীতে ৩৩৭, রংপুরে ২৩৭, সিলেটে ২২৮, বরিশালে ১৮৭ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১০৮ জন মারা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরও ১৯৭ রোগীকে এবং কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ৮৭৭ জনকে। বর্তমানে মোট আইসোলেশনে ১৫ হাজার ৭২১ জন ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৪৪ হাজার ৪০২ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনগুলোতে ৪৯ হাজার ৫৯৬টি কল এসেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত