বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ শাখায় রাজেশ বিশ্বাস (২৩) নামে এক নৈশপ্রহরীর হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার গোলচত্বরের পাশের শরীয়তনগর নজরুল মেডিকেল ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ব্যাংকটির কার্যালয়ের ভেতর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
রাজেশ সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার চান্দপুর গ্রামের ক্ষিরোধ বিশ্বাসের ছেলে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ব্যাংকটির নিরাপত্তাকর্মী রুহুল আমিন (২২) ও নাহিদ মিয়াকে (২৮) আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
বিডিবিএলের আশুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মো. মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘দুদিন ব্যাংক বন্ধ ছিল। মাঝেমধ্যে আমাদের কর্মকর্তারা বন্ধের দিনও আসেন। শনিবার রাতে ব্যাংকে এসে ভেতর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে আমরা থানায় খবর দিই। পরবর্তীকালে পুলিশ এসে রাজেশের মরদেহ উদ্ধার করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘টাকার ভল্ট ভাঙার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা, তবে ভল্ট থেকে কোনো টাকা খোয়া যায়নি। এছাড়া ব্যাংকের অন্যসব মূল্যবান জিনিসপত্র সবকিছুই ঠিক আছে।’
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাংকের ভেতরেই নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন রাজেশ। শনিবার রাতে এক কর্মকর্তা ব্যাংকের ভেতরে যাওয়ার জন্য দরজায় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাচ্ছিলেন না। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে রাজেশের হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। এ সময় ব্যাংকের বিভিন্ন ড্রয়ার ভাঙা ও জানালার গ্রিল কাটা পাওয়া যায়।
শনিবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, কেন এবং কারা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে তার তদন্ত চলছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। আশুগঞ্জ থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ বলেন, ‘ব্যাংকের দুজন নিরাপত্তাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ব্যাংকের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করছি।’
পিবিআই, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে জানিয়ে ওসি আরও বলেন, ‘আশা করছি দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে পারব।’ এদিকে রবিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে করেছেন বিডিবিএলের প্রধান কার্যালয় থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
