শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মেয়াদ বাড়তে পারে

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৫২ এএম

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আরেক দফা বাড়তে পারে। এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে। যদিও ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কর্মকর্তারা বলছেন, ছুটি বাড়বে কি না, এখনই বলা সম্ভব নয়; তবে দেশে করোনা পরিস্থিতি যে অবস্থায় রয়েছে তাতে স্কুল খুলে দেওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি। করোনার কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলমান রয়েছে। তবে ৩ অক্টোবরের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হবে নাকি খুলে দেওয়া হবে, এ নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আকরাম-আল-হোসেন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত যে অবস্থায় রয়েছে তাতে স্কুল খুলে দেওয়ার মতো পরিবেশ হয়নি। তবে ছুটির বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। হাতে এখনো সময় আছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করে সাড়া পাওয়া যায়নি। মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্কুল বন্ধ বা খোলার বিষয়ে প্রাথমিক একটি বৈঠক দু-এক দিনের মধ্যেই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অনেক কিছু ভাবতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে মন্ত্রণালয় থেকে একটি সারমর্ম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। এরপর সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীই নেবেন। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দিকনির্দেশনা দেবেন, সেভাবেই মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ণ করবে।’

এদিকে করোনার বাস্তবতায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে কীভাবে এটি কাটিয়ে ওঠা যায় তা নিয়ে নানা পরিকল্পনা করছে সরকার। এখন নিজ নিজ স্কুলে মূল্যায়নের ভিত্তিতে ওপরের শ্রেণিতে ওঠানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। অবশ্য সেটি নির্ভর করছে কবে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে তার ওপর। এ ছাড়া উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষাও আটকে আছে। এই পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে তাও নিশ্চিত করতে পারছে না কোনো মন্ত্রণালয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত