আত্মহত্যা মনে হলেও জাপানি অভিনেত্রী ইয়োকো তাকউচির মৃত্যু নিয়ে অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ভক্ত ও শোবিজের সহকর্মীদের মাঝে।
ইয়োকোর বয়স হয়েছিল ৪০। দুই দশকের ক্যারিয়ারে তিনি শীর্ষ অবস্থান ছিলেন মৃত্যুর সময়ে। নাটক-সিনেমা থেকে শুরু করে স্থানীয় ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয়তার সূচক বিজ্ঞাপনেও ছিলেন প্রথম সারিতে। এ সময় তার মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ।
এ ছাড়া চলতি বছরে আত্মহত্যা করেন জনপ্রিয়তা অভিনেতা হারুমা মিউরা ও অভিনেত্রী আশিনা সেই। তবে ইয়াকোর মৃত্যুকে বলা হচ্ছে, সবচেয়ে বড় ধাক্কা।
১৯৯৯ সালে এনএইচকে মর্নিং ড্রামা ‘আসুকা’র মাধ্যমে খ্যাতি পান কিশোরী ইয়োকো। মূলত সদ্য হাস্যেজ্জ্বল চেহারা তাকে দর্শকদের মনে স্থান করে দেয় রাতারাতি। তার হাসি মুখ দেখা যেতো সিনেমার পোস্টার, ম্যাগাজিন প্রচ্ছদ বা বিয়ারের বিজ্ঞাপনে।
এইচবিও’র আলোচিত সিরিজ ‘মিস শার্লক’-এর নাম ভূমিকায় ছিলেন ইয়োকো। স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র শার্লক হোমস অবলম্বনে ২০১৮ সালে এ সিরিজ বানানো হয়।
ইয়োকো বরাবরই ব্যক্তি ও পেশা জীবনে ভারসাম্য রেখে চলতেন। তাই আত্মহত্যায় সহকর্মীরা খুবই অবাক হয়েছেন। আর ঘুরে ফিরে আসছে তার হাসি ও চেহারার ঔজ্জ্বল্য।
দুবার বিয়ে করেন ইয়োকো তাকউচি। দ্বিতীয় বিয়েতে বেশ সুখী ছিলেন বলেই জানতো সবাই। স্বামী নাকাবায়াসি তাইকা গত রবিবার ভোরে টোকিওর ফ্ল্যাটে মৃতদেহ আবিষ্কার করেন। তিনি রেখে গেছেন দুই সন্তান। এর মধ্যে দ্বিতীয়বার মা হয়েছেন গত জানুয়ারিতে।
গত বছর অক্টোবের ‘লি’ ম্যাগাজিনকে ইয়োকো বলেছিলেন, চল্লিশে এসে পেছন ফেরার কোনো তাগিদ নেই তার। কাঁধ থেকে সরে গেছে অনেক ভার— তিনি এখন অনেকটাই হালকা। পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করতে চান সামনের দিনগুলো।
সব মিলিয়ে ইয়োকোর মৃত্যু প্রশ্নবোধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার স্বামীও জানান, আত্মহত্যার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। স্ত্রীকে তার সব সময় একই মনে হয়েছে।
তবে কেউ কেউ অবসাদের কথা তুলছেন। জাপানি শো বিজনেসের চাপ মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে মত এসেছে। এ বিষয়ে এখনই ভাবার সময়। এমনকি মানসিক স্বস্তি ও আধ্যাত্মিকতায় জাপানের বৈশ্বিক মানের নিম্নগামিতা এখন আলোচনায়।
