টাইটানিক ডুবে যাওয়ার পেছনে ছিল অন্য কারণ

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৫০ পিএম

টাইটানিকের ডুবে যাওয়ার ঘটনা এখনো বড় রহস্য গোটা পৃথিবী কাছে। আসলেই কি বরফখণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা সলিল সমাধি হয়েছিল অতিকায় জাহাজটির! এ নিয়ে গবেষণার শেষ নেই।

জাহাজটির ডুবে যাওয়ার পেছনে ভিন্ন এক কারণ বেরিয়ে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। সুমেরুতে অরোরা বা সুমেরু প্রভার প্রভাবে দিগ্ভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল টাইটানিক, যার ফলে বরফের পাহাড়ের ধাক্কা খায় এটি।

ইংল্যান্ড থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল রাতে ডুবে গিয়েছিল টাইটানিক। মৃত্যু হয়েছিল ৭০০ যাত্রীর। কীভাবে ঘটল এমন ঘটনা? এ নিয়ে কাজ করে আসছিলেন স্বাধীন গবেষক মিলা জিনকোভা।

রবিবার বিজনেস ইনসাইডার এক প্রতিবেদনে জানায়, গত মাসে ব্রিটিশ রয়্যাল মিটিওরোলজিকাল সোসাইটির জার্নাল ওয়েদারে প্রকাশিত হয় তার একটি গবেষণাপত্র।

গবেষণাপত্রে বলা হয়, ১৪ এপ্রিল রাতে আকাশে চাঁদ ছিল না। সুমেরু প্রভার ছটায় সেদিন আলোকিত হয়েছিল সমুদ্রের আকাশ। সৌর ঝড়ের কারণে তৈরি হয়েছিল এই প্রভা।

কখনো কখনো সৌরঝড়ে তীব্রতা এতটাই বেশি হয় যে সুমেরু বা কুমেরু প্রভা তৈরি করতে পারে। এই ঝড় স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করতে সক্ষম। পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের উপরও এই সৌর ঝড়ের ব্যাপক প্রভাব পড়ে। 

গবেষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, ওই দিন রাতে উত্তর আটলান্টিক সাগরে ভূ-চুম্বকীয় ঝড়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। যার কারণে জাহাজের দিক নির্ণয় ও যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রভাবিত হয়েছিল। এতে ভুল দিকে চালিত হয়েছিল জাহাজটি। ফলে বরফের ডুবো পাহাড়ে ধাক্কা খায়।

ডুবে যাওয়ার দুই ঘণ্টা পর টাইটানিকের কাছে পৌঁছে অনুসন্ধানী জাহাজ কার্পাথিয়া। জাহাজটির সেকেন্ড অফিসার জেমস বিসেটের বক্তব্যেও পরবর্তীতে সুমেরু প্রভার বিষয়টা উঠে আসে।

ওই রাতের বর্ণনায় তিনি জানিয়েছিলেন, আকাশে কোনো চাঁদ ছিল না। তবে উত্তর দিগন্ত থেকে জোস্ন্যার মতো সুমেরু প্রভার ঝলমলে আলো দেখা যাচ্ছিল।  

এই সুমেরু প্রভা যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলায় নিকটবর্তী লা প্রভেন্সে পৌঁছায়নি টাইটানিক বার্তা। এমনকি কার্পাথিয়ার কাছে টাইটানিকের সঠিক অবস্থানের বার্তা যায়নি। কাকতালীয়ভাবে, কার্পাথিয়াও ভুলভাবে পরিচালিত হয়ে পৌঁছে গিয়েছিল টাইটানিকের কাছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত