করোনার কারণে বাইরের খাবারের অভ্যাস একেবারে কমে গিয়েছে। রোগ ঠেকানোর ৮০ শতাংশ চাবিকাঠি যেখানে লুকিয়ে আছে হাতের পরিচ্ছন্নতার উপর, সেখানে অন্যের হাতে বানানো, অন্যের হাতে পরিবেশন করা ও অন্যের হাতে ধোওয়া বাসনে খেলে নিরাপত্তার প্রাথমিক শর্ত বিঘ্নিত হবে, এই আতঙ্ক কাজ করেছে অনেকের মধ্যেই।
কিন্তু তা বলে মানুষ বাইরে খাচ্ছে না, বিষয়টি এমন নয়। তাদের সবাই যে সংক্রমিত হচ্ছেন তা নয়। ভালো-মন্দ খাবারের পসরা নিয়ে রেস্টুরেন্ট গুলোও আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। এ সময়ে সব দিক বজায় রেখে মুখের স্বাদ বদলাতে গেলে কী করতে হবে, তা জানতে আগ্রহী সবাই। বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন এ বিষয়ে, জেনে নেওয়া যাক।
কী খাব, কী খাব না
• হোম ডেলিভারি নিলে সেই খাবার বাড়িতে এনে ভাল করে গরম করে নিতে হবে। সে ডাল-ভাত-মাছের ঝোল হতে পারে, হতে পারে বিরিয়ানি-রোল-পিৎজা-মোমো।
• ঘরোয়া খাবার হলে মোটামুটি নিয়মিত খেলেও অসুবিধা নেই। ফাস্ট ফুড বা জাঙ্ক ফুড কম খাওয়া সবসময়ই ভাল।
• ডিসপোজেবল কাপে চা-কফি খেলে এমনিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কারণ চা-কফির তাপে জীবাণু বেঁচে থাকতে পারে না। তবে সেই কাপে অন্য কেউ হাত দিলে তা নিরাপদ থাকে না।
• অনেকের ইচ্ছে ফুচকা খাওয়ার। হাত স্যানিটাইজ করে, চোখে-মুখে হাত না দিয়ে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি কেউ ফুচকা বানান, তবে তা খেতে অসুবিধা নেই। তবে সাধারণভাবে হাত দিয়ে বানানো হয় এমন খাবার যেখান সেখান থেকে এখন না খাওয়াই ভাল।
আপাতত রেস্তরাঁয় বসে খাওয়া ঠিক নয়। তা-ও যদি কেউ খেতে যান, তাকে খেয়াল রাখতে হবে সেখানে যেন সব রকম সতর্কতা মেনে চলা হয়।
রেস্তরাঁয় যা মেনে চলতে হবে-
• অতিথিদের হাতের সঙ্গে জুতোও স্যানিটাইজ করা হচ্ছে।
• মেনু কার্ড পাঠানো হচ্ছে মোবাইলে বা টেবল ম্যাটে মেনু লেখা থাকছে।
• ছ-জনের টেবিলে চারজনকে বসানো হচ্ছে।
• দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সব খাবারের অর্ডার এক বারেই নেওয়া হচ্ছে।
• অতিথিরা নিজেরাই খাবার পরিবেশন করে নিচ্ছেন।
• খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে ডিসপোজেবল পাত্রে।
• পরিবেশনকারীরা মাস্ক, ফেস শিল্ড আর গ্লাভস পরে কাজ করেন। দু-তিনটে টেবিল সার্ভ করার পরেই তাঁকে বিশ্রাম দিয়ে, অন্য কর্মীদের কাজে লাগানো হচ্ছে।
• কার্ডে বিল মেটানোর ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সোয়াইপ মেশিন বার বার স্যানিটাইজ করা হচ্ছে।
• যাঁরা খাবার বানাচ্ছেন, তারা সুস্থ কি না, দেখে নেওয়া হচ্ছে তা-ও।
