মহামারী করোনাভাইরাসের বিপর্যস্ত বিশ্বে প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে নতুন রোগীর সংখ্যা। আক্রান্তদের মধ্যে মারাও যাচ্ছে হাজার হাজার। গতকাল বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চলে সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৬২ হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১০ লাখ ৩ হাজার ১৯৮ জনের। আলোচ্য সময় পর্যন্ত অবশ্য বিশ্বজুড়ে ২ কোটি ৪৬ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি মানুষ আরোগ্য লাভ করেছে এই রোগ থেকে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য মতে, নতুন রোগীর মধ্যে রবিবার ২৪ ঘণ্টাতেই শনাক্ত হয়েছে আড়াই লাখের বেশি রোগী। তবে এর মধ্যে কেবল ভারতেই শনাক্ত হয়েছে ৮২ হাজার ১৭০ জন করোনা রোগী। গতকালের এই সংখ্যার সঙ্গে সোমবার নতুন রোগী মিলিয়ে দেশটিতে মোট শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৮ জনে। যা বিশ্বে শনাক্ত হওয়া মোট রোগীর ১৮ দশমিক ২৫ শতাংশ।
আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আরও ১০৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এতে মহামারীতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৬২৬ জনে। তবে এই পরিস্থিতিতে কোনো কোনো চিকিৎসক বলছিলেন, দেশে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হতে শুরু করেছে। হার্ড ইমিউনিটির অর্থ, গোষ্ঠী বা কমিউনিটির ভেতরে করোনার সঙ্গে লড়াইয়ের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গিয়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ বলছেন, হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়ে গিয়েছে বলেই এখনো পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা কম। অ্যান্টিবডি টেস্ট করে দেখা যাচ্ছে, অনেকের শরীরেই করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গিয়েছে।
তবে হার্ড ইমিউনিটি নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সংস্থা আইসিএমআর একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল সম্প্রতি। সেখানে দেখা গিয়েছে, হার্ড ইমিউনিটি এখনো তৈরি হয়নি।
এদিকে করোনা নিয়ে এখন প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। বলা হচ্ছে, অত্যন্ত সফলভাবে করোনা মোকাবিলা করতে পেরেছে সরকার। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সরকার আদৌ করোনার মোকাবিলা করতে পেরেছে কি-না, তা নিয়েই। প্রায় দুই মাস লকডাউন করেছিল সরকার। সে সময় দেশজুড়ে সংক্রমণের হার ছিল হাজারের ভেতরে। কিন্তু সরকার যখন লকডাউন তুলে নিতে শুরু করল, তখনই সংক্রমণ বেড়ে প্রায় দৈনিক লাখে গিয়ে পৌঁছল। অথচ তা নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। গত এক মাসে সমস্ত অফিস খুলে গিয়েছে। স্কুল-কলেজ খোলার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
এই অবস্থায় শীতে সংক্রমণ আরও ভয়াবহ চেহারা নিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বলা হচ্ছে, সামনের বছরের মাঝামাঝি সময়ের আগে ভ্যাকসিন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছবে না। ১৩০ কোটি মানুষের ভ্যাকসিন পেতে দীর্ঘ সময় লাগবে। যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে আগামী শীতে মৃত্যুর হার আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ।
করোনাভাইরাস সংক্রমণে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারত, ৭৩ লাখেরও বেশি রোগী নিয়ে এই তালিকায় শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে মারা গেছে অন্তত ২ লাখ ৯ হাজার ৪৫০ জন। তৃতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪৭ লাখ ৩২ হাজারেরও বেশি। দেশটিতে মারা গেছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৭৩ জন।
