শুধু মেডিকেল বর্জ্যই নয়, সব ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাস, নৌ, বিমান বা যেকোনো স্টেশনের বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। এ কাজে যেসব সংস্থা দায়িত্বপ্রাপ্ত তাদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন নৌপথের বর্জ্য অপসারণে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে। এ ছাড়া কৃষিজমি রক্ষায় যেখানে-সেখানে শিল্প স্থাপন করা যাবে না। অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপন করতে হবে, যেখানে গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, রাস্তাসহ সব ধরনের সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি নদীর পাড় দখলমুক্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একদিকে পাড় অবৈধ দখলমুক্ত করা, অন্যদিকে কচুরিপানা মুক্ত করে ড্রেজিং করতে হবে।’
এম এ মান্নান জানান, ‘ডিজিটাল ভূমি জোনিংয়ের সময় বাংলায় সব তথ্য নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, এ প্রকল্পের সব ডকুমেন্ট বাংলায় তৈরি করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারে।’
একনেকে ৭৯৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প পাস হয়েছে। এর মধ্যে সরকার দেবে প্রায় ৬২৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং বিদেশি ঋণ ১৭২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং’ প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। চলতি বছর থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামে যত মামলা, হাঙ্গামা, খুন-খারাবি তার বেশিরভাগই হয় জমিকেন্দ্রিক। ডিজিটাল ভূমি জোনিং হলে এই সমস্যা দূর হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের উৎপাতও কমে যাবে। তাছাড়া জোনিং হলে জমির চরিত্র কী তা সহজেই জানা যাবে। জমি খাস, অর্পিত, আবাদি না জলাভূমি তার সবকিছু সহজেই জানা যাবে ভূমি জোনিংয়ের মাধ্যমে।’
গতকাল একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এবং সংশ্লিষ্ট অন্য মন্ত্রীরা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষ থেকে সভায় অংশ নেন।
