কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল-আহমেদ আল-সাবাহ মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার কুয়েতের রাষ্ট্রীয় টিভিতে তার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করা হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। সাবাহর মৃত্যুতে তার কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল আহমেদ আল সাবাহর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে দুঃখিত, শোকাহত। তার মৃত্যু কুয়েতের জনগণ, ইসলামী আরব বিশ্ব এবং বন্ধু দেশগুলোর জনগণের জন্য খুবই দুঃখজনক।
অসুস্থ হয়ে কুয়েতের হাসপাতালে কিছুদিন ভর্তি থাকার পর গত জুলাইয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেখ সাবাহ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর কুয়েতি আমিরের দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। কিন্তু গতকাল সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নানা বিরোধ নিষ্পত্তিতে তার ভূমিকা অনেক। সম্প্রতি সৌদি আরব ও এর মিত্র দেশ এবং কাতারের মধ্যকার কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে কাজ করেছিলেন তিনি। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকেও কুয়েতকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন সাবাহ। যুদ্ধে জড়ানোর বদলে দেশটিতে মানবিক ত্রাণ সহায়তার জন্য বেশকিছু দাতা সম্মেলন আয়োজন করেছিলেন তিনি।
২০০৬ সালে কুয়েতের তৎকালীন আমির শেখ সাদ আল-আবদুল্লাহর পদত্যাগের পর জানুয়ারিতে ক্ষমতায় এসেছিলেন শেখ সাবাহ আল-আহমেদ আল-সাবাহ। এর আগে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তারও আগে ১৯৬৩ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত এবং ১৯৯২ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন শেখ সাবাহ।
গত ২৬০ বছর ধরে কুয়েত শাসন করছে সাবাহ পরিবার। দেশটির রাজনৈতিক বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন আমিরই। পার্লামেন্ট বাতিল করা কিংবা ভেঙে দিয়ে নির্বাচন ডাকার ক্ষমতাও থাকে আমিরের হাতে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যগুলো বলছে, সাবাহর মৃত্যুতে তার ৮৩ বছর বয়সী সৎ ভাই এবং বর্তমান যুবরাজ শেখ নাওয়াফ আল-আহমেদ নতুন আমিরের দায়িত্ব নেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
