সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দল বেঁধে ধর্ষণ মামলার দুই নম্বর আসামি তারেকুল ইসলাম তারেককে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। চুল-দাড়ি কেটে বেশভূষায় পরিবর্তন এনেও গ্রেপ্তার এড়াতে পারেনি সে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের গড়মা গ্রাম থেকে র্যাব-৯-এর একটি দল তারেককে আটক করে। এদিকে তরুণী ধর্ষণ মামলার আরও তিন আসামির পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। এরা হলো মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি শাহ মাহবুবুর রহমান রনি (২৫) এবং এজাহারের বাইরের রাজন মিয়া (২৭) ও আইনুদ্দিন (২৬)। গতকাল দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম দ্বিতীয় আদালতে আসামিদের হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা, শাহপরান থানার পরিদর্শক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য্য। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের এপিপি খোকন কুমার দত্ত এসব তথ্য জানান।
এর আগে গত সোমবার মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান (২৮), চার নম্বর আসামি অর্জুন লস্কর (২৫) ও পাঁচ নম্বর আসামি রবিউল ইসলামের (২৫) পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে একই আদালত। আগের দিনের মতো গতকালও আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে যাননি।
এর আগে গত সোমবার মধ্যরাতে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত ছয় নম্বর আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুমকে (২৫) মঙ্গলবার বিকেলে শাহপরান থানায় হস্তান্তর করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আজ বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
যেভাবে গ্রেপ্তার তারেক : তরুণী ধর্ষণের মামলার এজহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি তারেকুল ইসলাম তারেককে সুনামগঞ্জের দিরাই থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গতকাল সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের গড়মা গ্রাম থেকে র্যাব-৯-এর একটি দল তাকে আটক করে। গ্রেপ্তার এড়াতে তারেক চুল-দাড়ি কেটে বেশভূষায় পরিবর্তন এনছিল বলে জানিয়েছেন র্যাব কর্মকর্তারা।
তারেককে গ্রেপ্তারের বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন র্যাবের সুনামগঞ্জ কোম্পানির কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবদুল্লাহ রাসেল।
তারেকুল ইসলাম তরুণীর স্বামীর করা মামলার দুই নম্বর আসামি। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের উমেদপুর গ্রামে। তার বাবা রফিকুল ইসলাম বেঁচে নেই। পরিবারের অন্যদের সঙ্গে সে সিলেটে বসবাস করত।
র্যাব কর্মকর্তা আবদুল্লাহ রাসেল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল দিরাই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দিনভর অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যায় বড়মা গ্রামের আলী হোসেনের বাড়ি থেকে তারেককে আটক করা হয়। আলী হোসেন তারেকের দূর সম্পর্কের আত্মীয় বলে জানা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দল এমসি কলেজে : এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের ঘটনা তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই তদন্ত কমিটির সদস্যরা গতকাল বিকেলে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছেন। পরে তারা ঘটনাস্থল কলেজ ছাত্রাবাস পরিদর্শন করেন। এরপর কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে অধ্যক্ষ প্রফেসর সালেহ আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে এ বিষয়ে কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন অধ্যক্ষ। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি সিলেটে এসে পৌঁছেছে। তাদের সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তা চলছে। এর বেশি কিছু এই মুহূর্তে জানানোর নেই।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন মাউশির পরিচালক (প্রশাসন) শহিদুল কবির চৌধুরী, সহকারী পরিচালক লোকমান হোসেন ও উপপরিচালক নুরে আলম।
এমসি কলেজের গঠিত নিজস্ব তদন্ত কমিটির সঙ্গেও তাদের বৈঠক করার কথা রয়েছে। ঘটনার পরদিন কলেজ কর্র্তৃপক্ষ কলেজের গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আনোয়ারুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। ১০ দিনের মধ্যে এ কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা।
১২৮ বছরের সুপ্রাচীন সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গত শুক্রবার দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার এক দম্পতি নিজেদের প্রাইভেট কারে শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে ফেরার পথে এমসি কলেজের প্রধান ফটকে কেনাকাটার জন্য থামেন। এরপর গাড়িসহ স্বামী-স্ত্রীকে ছাত্রাবাসে ধরে নিয়ে স্ত্রীকে গাড়ির ভেতরে পালা করে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন শনিবার নির্যাতিতার স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন।
মামলার আসামিরা ছাত্রলীগের ‘সক্রিয় কর্মী’ বলে পুলিশ ও দলীয়সূত্র নিশ্চিত করেছে। করোনার কারণে কলেজ ছাত্রাবাস বন্ধ থাকলেও এরা প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রাবাসের বেশ কয়েকটি কক্ষ দখল করে সেখানে বসবাস করছিল।
