বিমান যোগাযোগ স্থাপনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২০, ০২:১০ এএম

বর্তমান সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ স্থাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিমান পরিবহন চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর এ পর্যন্ত অত্যাধুনিক ১৩টি বিমান আমাদের বিমানবহরে যুক্ত হয়েছে। আমরা যখন বোয়িং বিমানগুলো কিনি তখন থেকেই এটা একটা প্রচেষ্টা ছিল যাতে আমেরিকায় আমাদের বিমান নিতে পারি। কারণ সেখানে আমাদের অনেক বাঙালি বসবাস করেন।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র গত ৩০ সেপ্টেম্বর একটি বিমান পরিবহন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে এমন চুক্তি হতে পারে এ আভাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা থেকে টরন্টো, নিউ ইয়র্ক, টোকিওসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যাতে আমরা যেতে পারি সেজন্য কিছু বিমানও আমরা ক্রয় করে ফেলেছি। কাজেই সবার সঙ্গে একটা সমঝোতা করে এই শিল্পটাকে আমাদের আরও উন্নত করতে হবে এবং এই যোগাযোগটাকেও বাড়াতে হবে সেজন্যই আমরা বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছি।’

গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর গ্রিন রোডে নবনির্মিত ‘পানি ভবন’, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্মুখে নির্মিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘ম্যুরাল’ ও বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ এবং পর্যটন করপোরেশনের নবনির্মিত প্রধান কার্যালয় ‘পর্যটন ভবন’ উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশ বিমানের আধুনিকায়নের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিমানের নিরাপত্তা এবং সেবা বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার চাহিদা অনুযায়ী যথাযথভাবে আইনগুলো প্রণয়ন করে সেই আইনও আমরা পাস করে দিয়েছি যাতে আমাদের বিমান পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাঠাতে পারি। আর অন্য দেশ থেকেও বিমান আসতে পারে, সেদিকেও আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়েছি।’

দেশের পানির চাহিদা মেটাতে ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জলাধারগুলোর ধারণক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে যত খাল, বিল, হাওর, পুকুর, নদী যা আছে সবগুলোর যাতে নাব্য থাকে, সেগুলো খনন করা, সেখানে পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো, এসব করতে হবে। তাতে দুটি কাজ হবে। একটা হচ্ছে আমাদের জীববৈচিত্র্য রক্ষা হবে, মৎস্য উৎপাদন বাড়বে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হবে। তাতে মানুষের চাহিদাটাও আমরা পূরণ করতে পারব।’

মানুষের পানির চাহিদা মেটাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে পানির জন্য এক সময় হাহাকার ছিল সেই হাহাকারটা যেন বন্ধ হয়। আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষকে সুপেয় পানি দিতে হবে। আমাদের ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করতে হবে। আমাদের সেচের পানি বা ব্যবহারের পানি ভূ-গর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস থেকে আসে সেদিকে যাতে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দেই।’

জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী : জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চলমান ৭৫তম অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে পৃথিবীকে রক্ষায় চার দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রস্তাবে তিনি বিনিয়োগের সময় টেকসই ভবিষ্যৎ তৈরি, গণসচেতনতা সৃষ্টি, জ্ঞানের বিশ্বব্যাপী বণ্টন এবং প্যারিস সনদ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। গতকাল সকালে (বাংলাদেশ সময়) অধিবেশনের ভার্চুয়াল সাইড লাইনের জীববৈচিত্র্য সম্মেলনে বিবৃতির মাধ্যমে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলো হলো : (ক) পৃথিবী এবং আমাদেরকে রক্ষার জন্য বিনিয়োগের সময় আমাদের টেকসই ভবিষ্যতের প্রতি মনোযোগী হতে হবে; (খ) শিক্ষাব্যবস্থা এবং গবেষণার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে বৃহত্তর গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং জাতীয় পর্যায়ে আইন-কানুন জোরদার করা এবং নিরীক্ষণ প্রক্রিয়া জীববৈচিত্র্য রক্ষার মূল পদক্ষেপ; (গ) জেনেটিক রিসোর্স এবং ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের প্রকৃত মালিকদের জন্য বিশ্বব্যাপী সুফল বাটোয়ারায় প্রবেশাধিকার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে এবং (ঘ) প্যারিসের (সনদ) লক্ষ্য অর্জন আমাদের বিলুপ্তি এবং টিকে থাকার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করতে পারে। আমাদের অবশ্যই সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ সময় বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের জন্য জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের ব্যাপারে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা একটি আন্তঃনির্ভরশীল বিশ্বে বাস করি যেখানে পৃথিবী গ্রহের প্রতিটি প্রজাতি আমাদের বাস্তুসংস্থানে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।’

এছাড়া জীববৈচিত্র্য সম্পর্কিত কনভেনশন বাস্তবায়নের জন্য আইন-প্রণয়নকারী অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালের প্রথম দিকেই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের আদেশ কার্যকর করেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশন ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে শুরু হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘আমরা ভবিষ্যৎ চাই, জাতিসংঘ আমাদের প্রয়োজন : বহুমুখিতার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্নিশ্চিতের মাধ্যমে।’ গত ২৬ সেপ্টেম্বর অধিবেশনে মূল বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত