শো থেকে দূরে মঞ্চ মাতানো শিল্পীরা

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২০, ১১:১৫ পিএম

করোনা সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই অনেক কিছুর মতো বন্ধ হয়ে যায় স্টেজ শো। এখন সবই প্রায় চালু হলেও স্টেজ শো কবে শুরু হবে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। বিষয়টি নিয়ে বেশ মন খারাপ স্টেজ মাতানো শিল্পীদের। তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

আঁখি আলমগীর

আমি ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই স্টেজ শো নিয়ে খুব ব্যস্ত। রেকর্ডিংয়ের চেয়ে স্টেজেই বেশি ব্যস্ত থেকেছি। কিন্তু দীর্ঘদিন স্টেজে গান না করার বিষয়টি সত্যি আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। স্টেজ শো আমার সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা। যখন স্টেজ শো শুরু করি তখন থেকে এখন পর্যন্ত আমার পরিবেশনায় নিজস্বতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। রুনা লায়লা, নূরজাহান বা আরও যারা ভালো স্টেজ পারফরমার তাদের মতো যদি আমি করতে চাইতাম তাহলে কোনোদিন তাদের মতো হতে পারতাম না। এ জন্য নিজস্ব স্টাইল তৈরি করেছি। যখন নতুন কিছু দেখানো যায় তখনই দর্শক সেটা গ্রহণ করে। তাই হয়তো আমার স্টেজ পারফর্মের বিষয়টি নিয়ে সবাই আলাদা করে কথা বলে। আমি চেয়েছি, আমি কাউকে কপি করব না, হয়তো এক সময় আমাকে অনেকে অনুকরণ করবে। এখন অনেক শিল্পীকে দেখি হুবহু আমাকে অনুকরণ করে স্টেজে পারফর্ম করতে। এটা আমাকে খুব আনন্দ দেয়। আমাকে যদি বলা হয়, কোনো অনুষ্ঠানে কোরিওগ্রাফার নেই, তখন নিজেই একটি গান কোরিওগ্রাফি করে ফেলতে পারি। এমনকি অন্য শিল্পীদের মেকআপ, পোশাকের জন্য আলাদা লোক থাকে। কিন্তু আমি নিজের সাজ পোশাক নিজেই ঠিক করি। কারণ অন্যের দেওয়া পোশাক আমার পছন্দ হয় না। প্রতিটি বিষয়ে সূক্ষ্ম ধারণা না থাকলে প্রোপারভাবে নিজেকে মঞ্চে উপস্থাপন করা যায় না।

হাবিব ওয়াহিদ

আমার স্টেজ পারফর্ম অন্যদের থেকে আলাদা বলেই হয়তো দর্শক পছন্দ করে। আমি কোনো ব্যান্ড তারকা বা বিদেশি তারকাদের অনুসরণ করি না। আমি আধুনিক গান করি, কিন্তু আমার স্টেজ শো দেখলে বুঝতেন তাতে অনেক বাদ্যযন্ত্রের সমাহার থাকে। তার মধ্যে বেশ কিছু আমাকে স্টেজেই মেইনটেইন করতে হয়, বাজাতে হয়। এজন্য হয়তো দর্শক আমার মিউজিক ও পরিবেশনায় ভিন্নতা পান। আমি মূলত চেষ্টা করি দর্শকের মধ্যে এক ধরনের মিউজিক্যাল অ্যাম্বিয়েন্স ক্রিয়েট করতে। সেটা যখন তৈরি হয় তখন দর্শক গান আর বাদ্যযন্ত্রের তালের মধ্যেই থাকেন। এজন্য আমার কাছে ওপেন কনসার্টের চেয়ে ইনডোরের বড় হলবিশিষ্ট কনসার্ট ভালো লাগে।

দিলশাদ নাহার কনা

ছোটবেলা থেকে রুনা লায়লাকে দেখেই বড় হয়েছি। তাই আমি চেষ্টা করি তার মতো করে পরিবেশনা করতে। এখনো তার মতো করতে পারি না, তিনি যে স্মার্ট, ও মাই গড! তিনি শাড়ি পরেই যে সুন্দর করে স্টেজ মাতিয়ে রাখেন তা শেখার বিষয়। তবে আমার পরিবেশনায় কিছুটা নিজস্বতাও থাকে। আমাকে যারা কনসার্টে ডাকেন তারা আমার গান পছন্দ করেন বলেই তো ডাকেন। আমার নিজের গানে আমি নিজের মতো করে মুভমেন্ট করতে পারি। ছোটবেলা নাচ শেখার খুব শখ ছিল। মাধুরী দীক্ষিতের বড় ভক্ত আমি। তাই নাচটা আমার মধ্যে আছে। গানের মেজাজ আর স্টেজের পরিবেশ বুঝে নাচের মুভমেন্ট ব্যবহার করি।

প্রতীক হাসান

আমাকে দুই ধরনের দর্শকের কথা মাথায় রেখে গান করতে হয়। একশ্রেণির লোক আছেন যারা আমার বাবার (জনপ্রিয় শিল্পী প্রয়াত খালিদ হাসান মিলু) গান আমার গলায় শুনতে খুব পছন্দ করেন। আর তরুণ প্রজন্ম আমার নিজের গান, যেমন বিয়াইন সাব, গার্লফ্রেন্ডের বিয়া, তোর ভালোবাসা নয় রে ভালোসহ বেশ কিছু বাজনাদার গান শুনতে চায়। তাই আমি প্রথমেই খেয়াল করি কোন ধরনের আধিক্য বেশি রয়েছে কনসার্টে। সেভাবে গান নির্বাচন করি। অনেকে বলে থাকেন, স্টেজ শোর জন্য ফিট থাকা খুব জরুরি। এটা সত্য, কিন্তু আমার স্বাস্থ্য ভালো হলেও আমি টানা  দেড়-দুই ঘণ্টা স্টেজে জোশ নিয়ে পারফর্ম করতে পারি। এটা আসলে নির্ভর করে শিল্পীর মানসিক সক্ষমতার ওপর।

জাকিয়া সুলতানা কর্ণিয়া

আমি স্টেজ শো সত্যি খুব মিস করি। আবার কবে দর্শকের সঙ্গে সরাসরি কথা হবে, গান হবে জানি না। স্টেজ শোর ক্ষেত্রে আমি কয়েকটি বিষয় খেয়াল করি। তা হলো, প্রথমে দেখি দর্শক কারা? সে অনুযায়ী গান নির্বাচন করি। এরপর দেখি কী ধরনের অনুষ্ঠান, সে অনুযায়ী পোশাক ও সাজগোজ ঠিক করি। স্টেজে সাধারণত দর্শক খুব বেশি কথা শুনতে চান না। তাই আমি মানের মাধ্যমেই তাদের আগ্রহ ধরে রাখার চেষ্টা করি। বেশিরভাগ স্টেজেই নাচের গান করার অনুরোধ আসে। নিজের গানের পাশাপাশি সিনিয়র শিল্পীদের গানও আমি করি। বিদেশি গানের অনুরোধও আসে মাঝে মাঝে। স্টেজ পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে আমার সবচেয়ে ভালো লাগে লেডি গাগা, জেনিফার লোপেজ, শাকিরা, টেইলর সুইফট, কেটি পেরি, আরিয়ানা গ্রান্দেকে। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করি। পাশাপাশি নিজস্বতা দিয়ে দর্শকের মন জয় করতে হয়। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত