দেশি চামড়ার বাহারি ব্যাগ

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২০, ১১:৫০ পিএম

গত কয়েক বছর ধরে মেয়েদের ফ্যাশন এক্সেসরিজ হিসেবে বড় জায়গা করে নিয়েছে ব্যাগ। একটা সময় ব্যাগ কালো, বাদামি বড়জোর লাল রঙের ব্যাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন পরিবেশ বুঝে ব্যাগের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিংয়ের বিষয়টি। ফ্যাশনপ্রিয় মেয়েদের সংগ্রহের ঝুলিতে এখন নানা ধরনের ব্যাগ জায়গা করে নিয়েছে। দেশীয় ব্যাগ নিয়ে লিখেছেন লায়লা আরজুমান্দ

আমাদের দেশের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান নানা ধরনের ব্যাগ তৈরি করছে। দেশীয় চামড়া দিয়ে তৈরি এসব ব্যাগ মানসম্পন্ন ও ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। ব্যাগের ধরন ও নকশায়ও আছে বৈচিত্র্য। দেশীয় ব্যাগের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এরই মধ্যে গুটিপার ব্যাগ। গুটিপায় পাওয়া যায়- ক্লাচ, পার্স, ক্রস বডি ব্যাগ, লেদারের কার্ড কেস, পেনসিল পাউচ, কয়েন পাউচ, ছেলে ও মেয়েদের মানিব্যাগ। প্রতিষ্ঠানটিতে তিন সপ্তাহ পরপর নতুন ডিজাইনের ব্যাগ পাওয়া যায়। উন্নতমানের লেদার, কাপড় ও সিনথেটিক লেদার ব্যবহার করে ব্যাগ তৈরি করে গুটিপা। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার তাসলিমা মিজি জানালেন, ‘দেশেই তৈরি হয় তাদের ব্যাগ। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ডিজাইনার ডিজাইন করেন। তাদের এমনও ব্যাগ আছে, যেগুলো বৃষ্টিতে ভিজলেও নষ্ট হয় না। শুধু কর্মজীবী নারীদের জন্য আছে কয়েক ধরনের ব্যাগ। সাধারণত বড় ও মাঝারি ব্যাগের চাহিদা অনেক বেশি। এগুলো অফিস কিংবা ক্লাসে ব্যবহারের জন্য ভালো। তাদের ব্যাগ দেশের বাইরেও রপ্তানি হচ্ছে। ‘গুটিপায় আছে পিউ লেদারে তৈরি আকর্ষণীয় গ্লোরিয়া শোল্ডার ব্যাগ। যা নীল, কমলা আর কালো রঙের। এর ডিজাইনার জুমানা খান জানান, ‘কর্মজীবী নারীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে গ্লোরিয়া শোল্ডার ব্যাগটি ডিজাইন করা হয়েছে। ভেতরের পার্টিশান, মোবাইল পকেট, সেফটি জিপার পকেট হচ্ছে এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কর্মজীবী মেয়েরা প্রয়োজনীয় ফাইল, লাঞ্চবক্স, ছাতা, বই, ডায়েরি ও বিভিন্ন রকমের পাউচ রাখতে পারেন। দুঃখজনক হলেও আমরা ডিজাইনাররা এত সুন্দর ও টেকসই মানসম্পন্ন ব্যাগ নকশা করার পরও অনেকেই বেশি দাম দিয়ে বাইরের সিনথেটিক লেদারের ব্যাগ কিনছেন।’ দেশীয় প্রতিষ্ঠান ট্যান-এর পরিচালক তানিয়া ওহাব বলেন, ‘আমরা মেয়েরা যারা ঘরে-বাইরে কাজ করি, আমাদের প্রয়োজনীয় অনেক কিছু নিয়ে বাইরে যেতে হয়। আর সে সব জিনিস গুছিয়ে নেওয়ার জন্য দরকার হয় একটা ব্যবহার উপযোগী ব্যাগ। যে ব্যাগে মোবাইল, পার্স, নোটবুক, ছোট একটা পানির বোতলসহ রাখা যাবে টুকিটাকি নানা কিছু। আবার সেটা হতে হবে ফ্যাশনেবল এবং বেশ শক্তপোক্ত। এসব বিষয় মাথায় রেখেই ট্যান নিয়ে এসেছে পিওর লেদারে তৈরি অনামিকা সিরিজ ও জামদানি সিরিজ। তিনটি কন্ট্রাস্ট রঙে লাল, কালো, চকলেট বা কালো, চকলেট, নেভি ব্লু। আমি মনে করি দেশীয় চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে সবাইকে দেশীয় পণ্য কিনতে উৎসাহিত করতে হবে। আমদানি করা ব্যাগের থেকে আমাদের দেশে তৈরি ব্যাগ কোনো অংশেই কম না।’ অবাবিল লেদার টেক-এর স্বত্বাধিকারী সোহাগ শান্ত বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি পণ্য অরিজিনাল লেদারের তৈরি। ব্যাগ, জুতা, অফিস এক্সেসরিজ, নানা ধরনের ওয়ালেট সবকিছুই পাবেন। মানসম্পন্ন বিশেষ করে চাইনিজ পণ্য থেকে অনেক বেশি ভালো।

ডিজাইনে আছে বৈচিত্র্য।’ গ্রাহকের চাহিদা মাথায় রেখে দেশেও নানা ধরনের ব্যাগ তৈরি করছে এরকম একটি প্রতিষ্ঠান রেনে বাংলাদেশ। রেনের স্বত্বাধিকারী সানজানা জামান বলেন, নিজস্ব কারখানাতেই তারা ব্যাগ বানান। শুরুর দিকে কাঁচামাল নিয়ে সংকটে থাকলেও এখন আর সে সমস্যা নেই। দেশে তাদের কাছ থেকে অনেকে ব্যাগ কিনে যেমন নিজেরা বিক্রি করছেন তেমনি তাদের ব্যাগ রপ্তানিও করছেন। মানের দিক থেকে তাদের ব্যাগ বিদেশি কোনো ব্যাগ থেকে কম নয়।’ এসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শোরুমের পাশাপাশি অনলাইনেও তাদের পণ্য বিক্রি করেন।

দরদাম

দেশীয় ব্যাগের দাম অপেক্ষাকৃত কম। স্যাচেল ব্যাগ ৪০০ টাকা থেকে শুরু, ব্যাকপ্যাক ৭০০ টাকা থেকে শুরু, ম্যাসেঞ্জার ব্যাগ ১২০০ টাকা, গ্লোরিয়া শোল্ডার ১৫০০ টাকা, ক্লাচ ৬০০ টাকা, ফ্রেমড ব্যাগ ১২০০ টাকা, টোট ৬০০ টাকা থেকে শুরু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত