আ.লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক আজ

করোনার দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে করণীয় নির্ধারণ করা হবে

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২০, ০৪:০৩ এএম

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে স্থবির হয়ে পড়া দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে আজ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বসছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বৈঠক থেকে স্বল্প পরিসরে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত এবং করোনার দ্বিতীয় ধাপ মোকাবিলায় দল ও সরকারের করণীয় নির্ধারণ করা হবে।  

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, জাতীয় কাউন্সিলের আগে সম্মেলন হওয়া ও জমা পড়া জেলা কমিটির অনুমোদন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বৈঠকে। সভায় ৮ বিভাগের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হবে। এছাড়া সামনে কিছু দিবস রয়েছে সেগুলোর জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।  তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটির বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। আমরা ওয়ার্ড, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে তৃণমূলে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করছি। আমাদের প্রত্যেক সম্পাদকের নেতৃত্বে যে উপকমিটি আছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে কমিটিগুলো  অনুমোদন দেওয়া হবে।’

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন। এতে আরও বলা হয়, সভায় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের আমন্ত্রিত সদস্যদের যথাযথভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে উপস্থিত থাকার জন্য সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অনুরোধ জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বলেন, ৮১ সদস্যের মধ্যে কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে শুধু ৩২ জন সদস্য উপস্থিত থাকবেন। যারা বৈঠকে থাকবেন তাদের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। অতীতে যাদের করোনাভাইরাস হয়েছে এবং এখনো করোনাভাইরাস আছে তারা বৈঠক থাকতে পারবেন না। এরমধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর ৮ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দুজন, সম্পাদকমণ্ডলীর ৮ জন, সাংগঠনিক সম্পাদক ৬ জন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য ৬ জন উপস্থিত থাকবেন।

নেতারা জানান, কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাপ মোকাবিলায় দল ও সরকারের করণীয় নির্ধারণ করা হবে। বিগত দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতে কোন পরিস্থিতিতে কী করণীয় তা নিয়েও আলোচনা হবে। সীমিত পরিসরে বসলেও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত আসতে পারে এই সভা থেকে। করোনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে থাকছে বিভিন্ন দিবসভিত্তিক কর্মসূচি নির্ধারণ, বিভিন্ন জেলার কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা, উপকমিটিগুলো চূড়ান্ত, করোনা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণসহ সম্মেলন হওয়া আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ এবং শ্রমিক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে আলোচনা হবে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে দু-একটি ছাড়া প্রায় সব বিভাগীয় উপকমিটির খসড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা পড়েছে।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের ৮১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটির ৮টি পদ ফাঁকা রয়েছে। এরমধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর ২টি, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও কার্যনির্বাহী সদস্যের ৩টি পদ। এর মধ্যে শুধু দলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদকের পদটির বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, দলের শূন্য পদ নিয়ে আলোচনা হবে বলে আমি মনে করি না। কারণ এটা নিয়ে আমাদের সভাপতিমণ্ডলীর সভায় আলোচনা করেছি। সেখানে আমরা নেত্রীকে বলেছি ‘আপনি দেখেন, উপযুক্ত লোকের বিষয়ে আপনি যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’ যদি কেউ কারও নাম প্রস্তাব করে সেটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে তা হবে বলে আমার মনে হয় না।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, স্বাভাবিকভাবে আমাদের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। কভিড-১৯ নিয়েও আলোচনা হবে। আর অবশ্যই আলোচনা হবে আমাদের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে।

করোনার আগে গত ৯ মার্চ গণভবনে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। করোনার মধ্যে গত ১৬ সেপ্টেম্বর গণভবনে সীমিত পরিসরে সভাপতিমণ্ডলীর সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর দলের সংসদীয় বোর্ডের এবং ২১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত