গুলশান কার্যালয়ে সংঘর্ষ

তদন্তে এক সদস্যের কমিটি গঠন বিএনপির

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২০, ০৪:০৬ এএম

ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনার ২০ দিন পর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘লন্ডনে অবস্থানরত দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনকে সংঘর্ষের ঘটনা তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।’ এদিকে ঘটনা তদন্তে যে কমিটি করা হয়েছে তার চিঠি পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে খোকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে আমাকে ফোন করে জানানো হয়েছে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা। শুক্রবার সকালে এ সংক্রান্ত দলের চিঠি পেয়েছি। এখন সংঘর্ষের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করে দোষীদের খুঁজে বের করতে চেষ্টা করব। এরপর তদন্ত রিপোর্ট দলের হাইকমান্ডের কাছে পৌঁছানো হবে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর শনিবার স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় লন্ডন থেকে যুক্ত হন তারেক রহমান। সভা শেষে স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, গুলশান কার্যালয়ের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন না করায় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আজ শনিবার আবার স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভার এক দিন আগে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ভয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন মহাসচিব। আজ সিরাজগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী ঘোষণা হতে পারে। ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী ঘোষণা তদন্তের পর।

গত ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চারটি শূন্য আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্যরা। এতে ২৮ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী অংশ নেন। রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত সাক্ষাৎকার গ্রহণ চলে। বিকেল ৫টায় গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যখন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু হয় তার পর কার্যালয়ের সামনের সড়কে দুই মনোনয়নপ্রত্যাশীর সমর্থকরা হাতাহাতি ও মারামারিতে লিপ্ত হন। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। সাক্ষাৎকার শেষে বেরিয়ে গুলশান কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে এম কফিল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের লোকজন তার সমর্থকদের মারধর করেছে। এতে ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মারাত্মকভাবে আহত উত্তরখানের একটি স্কুলের শিক্ষক এরশাদ মাস্টার ও দক্ষিণখানের ফায়দাবাদের বাসিন্দা নাজিমউদ্দিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এস এম জাহাঙ্গীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য ভেতরে ছিলাম। বাইরে কে বা কারা মারামারি করেছে সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। হামলার ঘটনায় দলে এবং দলের বাইরে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ক্ষুব্ধ হয় দলের হাইকমান্ড। 

ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, এম কফিল উদ্দিন আহম্মদ, বাহাউদ্দিন সাদি, আক্তার হোসেন, আব্বাস উদ্দিন, ইসমাঈল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন ও মোস্তফা জামান। ঘটনার পর মনোনয়নপ্রত্যাশী কফিল উদ্দিন আহম্মদ, বাহাউদ্দিন সাদি, আক্তার হোসেন, আব্বাস উদ্দিন, ইসমাঈল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন ও মোস্তফা জামান লিখিতভাবে সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা এস এম জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন না দেওয়ারও দাবি জানান। এছাড়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে একটি ভিডিও ফুটেজ পাঠান জাহাঙ্গীরের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। ফুটেজে দেখা গেছেসংঘর্ষে মাথা ফেটে যার রক্ত বের হচ্ছে, তার নাম নাজিমুদ্দিন। সে কফিল উদ্দিনের সমর্থক। এরপর আরও বেশ কয়েকজন মারাত্মক আহতের ছবি রয়েছে, এরাও নিজেদের কফিলের লোক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কফিল উদ্দিনের সমর্থকরা অভিযোগ করে বলেন, এস এম জাহাঙ্গীরের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ফুটেজে লালবৃত্ত করে হামলায় কে কে জড়িত তা দেখানো হয়েছে। এদের মধ্যে লাাঠি হাতে কিংবা হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরা হলেন এস এম জাহাঙ্গীরের শ্যালক ছাত্রলীগ নেতা দিপু সিকদার, তুরাগ থানা যুবদল সেক্রেটারি মামুন পারভেজ তন্ময়, দক্ষিণখান ছাত্রদল নেতা আল আমীন সরকার, উত্তরা পূর্ব থানা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আলামিন শেখ রুবেল, উত্তরা পূর্ব থানা যুবদলের সভাপতি আমিনুল হক, দক্ষিণখান থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আলম মিঠু, উত্তরা পশ্চিম থানা যুবদল সদস্য সচিব ফেরদৌস মজুমদার মাসুম, কর্মী আল আমিন সরকার, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল সেক্রেটারি জুয়েল রাজ ও উত্তরা পূর্ব থানা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ জামান সোহান।

জানা গেছে, জাহাঙ্গীর সমর্থকদের হামলায় আহত হন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেহরক্ষীর দায়িত্ব পালন করা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার এস এম রাজ্জাক। তিনি সম্প্রতি উত্তরায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসায় গিয়ে হামলায় জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান। এ সময় আবেগে কেঁদে ফেলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বৃদ্ধ বয়সে নিজ দলের সমর্থকদের হামলায় আহত হয়েছি। এটা খুবই লজ্জার।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত