কর্ম-খাবারের অভাবে লকডাউন থেকে সরে আসছে বিশ্ব

নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিভিন্ন সূচকে

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২০, ১১:৫৭ পিএম

করোনার প্রভাব থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে সস্তা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দ্রুত সব ধরনের কর্মক্ষেত্র খুলে দেওয়া হলে এ ভাইরাসের কারণে প্রাণহানির সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রলম্বিত হতে পারে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, দরিদ্র মানুষের কর্ম ও খাবারের অভাবের কথা বলে সামাজিক নিরাপত্তা ও লকডাউনের মতো উদ্যোগ থেকে সরে আসছে বিশ্বের অনেক দেশ। এর ফলে অর্থনীতির ক্ষতির পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মরণশীলতার মতো মানবসম্পদের বিভিন্ন সূচকে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) উদ্যোগে সানেম ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২০-এর তৃতীয় দিনে দারিদ্র্য ও মানব উন্নয়ন শীর্ষক একটি সেশনে বক্তাদের আলোচনায় এসব বিষয় উঠে এসেছে। ‘কভিড-১৯ এবং উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ’ প্রতিপাদ্যে তিন দিনের এ সম্মেলনের গতকাল ছিল শেষ দিন। এ সেশনে দরিদ্র মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করে করোনার টিকা আবিষ্কার পর্যন্ত কঠোর লকডাউন জারি করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

গতকাল অনুষ্ঠিত দারিদ্র্য ও মানব উন্নয়ন শীর্ষক একটি সেশনে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্যের অলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এস আর ওসমানী। এ সেশনে বিভিন্ন দেশের চার গবেষক চারটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ও সানেমের গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশা।

ড. ওসমানী বলেন, করোনায় বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির পাশাপাশি ক্ষুধা, পুষ্টি, মরণশীলতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মানব উন্নয়নের সূচকগুলোতেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে কনোরার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক নেতারা দ্রুত সবকিছু খুলে দিয়ে কম খরচে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে চাইছেন। দরিদ্র মানুষের খাদ্য ও আয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অর্থ তারা ব্যয় করতে চাইছেন না।

সায়েমা হক বিদিশা বলেন, দারিদ্র্য, দারিদ্র্যের হার ও মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির বিষয়টি বিশ্বব্যাপী বড় করে আলোচনায় আসছে। তবে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য, মানবসম্পদে দারিদ্র্যের প্রভাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিনির্ধারকরা কথা বলতে চাইছেন না।

তিনি আরও বলেন, অর্থনীতির পাশাপাশি মানবসম্পদ খাতে করোনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে।

অধিবেশনে ওপিএইচআইর গবেষণা কর্মকর্তা ড. রিকার্ডো নেগলস কারভজল একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বলেন, ৭৫টি দেশের মধ্যে ৪৭ দেশ ২০৩০ সালের বহুমাত্রিক দারিদ্র্য অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যের পথে রয়েছে। আর এ লক্ষ্যে সঠিক পথে নেই ১৮ দেশ।

তিনি আরও বলেন, করোনার পর অর্ধেকের বেশি প্রাথমিক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না। ৫৫ দেশে খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছেন ১৩ দশমিক ৫ কোটি মানুষ। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশগুলো বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের ক্ষেত্রে ৯ দশমিক ১ বছর পিছিয়ে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।

উদ্যোক্তারা জানান, তিন দিনের অনলাইন সম্মেলনে মোট ২৪টি গবেষণা উপস্থাপন করা হয়। সম্মেলনে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। এর মধ্যে গতকাল দুই সেশনে আটটি গবেষণা উপস্থাপন করা হয়।

করোনা ও উন্নয়নঝুঁকি শিরোনামে একটি সেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপনী টানা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দীন মাহমুদ ও ইউএনইউ-ডব্লিউআইডিইআরের পরিচালক অধ্যাপক কুনাল সেন  প্রমুখ বক্তব্য দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত