নরসিংদীতে স্কুলছাত্র হত্যা

খুন করে ৩ বছর ট্রাকচালক সেজে ছিল আসামি

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২০, ০৪:২০ এএম

নরসিংদীর বেলাবোতে স্কুলছাত্র সোহরাব হোসেন মুসাকে গলা কেটে হত্যার তিন বছর পর মামলার প্রধান আসামি একই এলাকার কবির মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। গত শুক্রবার গাজীপুরের শ্রীপুর থানার মাওনা বহেরার চালা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল শনিবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সিআইডির ডিআইজি মো. মাঈনুল হাসান জানান, এই তিন বছর ট্রাকচালক সেজে আত্মগোপনে ছিলেন কবির।

মাঈনুল বলেন, গ্রেপ্তার এড়াতে প্রায় তিন বছর আত্মগোপনে ছিলেন কবির। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, একটি ডাকাতিসহ বেশ কিছু মামলা আছে। বেলাবো উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য রিনা বেগমের ছেলে সোহরাবকে গলা কেটে হত্যার অন্যতম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকারী কবির। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি আরও বলেন, কবিরের সঙ্গে রিনা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে রিনা বেগমের ছেলে সোহরাবকে (১৬) হত্যার পরিকল্পনা করেন কবির। এ ঘটনা বুঝতে পেরে রিনা ছেলেকে কক্সবাজার পাঠিয়ে দেন। কক্সবাজার যাওয়ার আগে অপর আসামি বাচ্চু মিয়া ও ভিকটিম সোহরাব একই কক্ষে থাকত। কবির আসামি শিপন ও বাচ্চুকে প্রস্তাব দেন সোহরাবকে কৌশলে নিয়ে এসে তাদের কাছে তুলে দিতে। বাচ্চু জানায়, সোহরাব কক্সবাজারে। তখন কবির রিনার যেকোনো ছেলেকে ডেকে আনার প্রস্তাব দেন। বাচ্চু তার এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শিপন ও কবির তাকে ভয় দেখায়। পরে তাকে বেশ কিছু টাকা দেওয়া হয়। কক্সবাজার থেকে বাড়ি এলে ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর রাত ২টার দিকে শিপন ও কবির কৌশলে সোহরাবকে ডেকে নেয়। তখন তারা সোহরাবকে জাপটে ধরে মুখে গামছা বেঁধে স্থানীয় কুকুরমারা স্কুলের পেছনে নিয়ে যায়। আসামি শফিক ও মিলন সোহরাবের দুই পা ধরে, আর তুহিন ধরে মাথা, শিপন ধরে হাত। প্রথমে শিপন এবং পরে কবির ছুরি দিয়ে তার গলা কাটে।

ডিআইজি মাঈনুল আরও বলেন, ওই ঘটনায় রিনা বাদী হয়ে কবিরসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে বেলাবো থানায় হত্যা মামলা করেন। থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত করছিল। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে নরসিংদীর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নেয়। পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুবেল শেখ তদন্ত করে মামলার এজাহারনামীয় আসামি কবিরসহ তিনজন এবং এজাহারের বাইরে দুজনসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন। সেই চার্জশিটের বিরুদ্ধে রিনা বেগমের নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেয়। সিআইডি মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তার করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত