সরকারি সহায়তা

এমএফএস গ্রাহকের এক তৃতীয়াংশ পেয়েছে

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩৮ পিএম

মহামারী করোনায় সরকারি সহায়তা পেতে অনেক পরিবার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট খুলেছে। এ সময়ে যারা হিসাব খুলেছিলেন গত জুন পর্যন্ত তাদের এক-তৃতীয়াংশ সরকারি সহায়তা পেয়েছেন। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় এমন তথ্য মিলেছে।

গতকাল ‘লাস্ট মাইল এক্সপেরিয়েন্স অব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ডিউরিং কভিড-১৯’ শীর্ষক একটি ওয়েবিনারে টেলিফোনের মাধ্যমে ৩ হাজার ১৬৩ জনের ওপর করা একটি জরিপের ফল তুলে ধরা হয়। এই সমীক্ষা পরিচালনা করেন বিআইজিডির গবেষক ড. জুলকারিন জাহাঙ্গীর, আবদুল্লাহ হাসান সাফির, মো. সাইফুল ইসলাম ও সিমাব রহমান।

ওয়েবিনারে বলা হয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০১৪ সালে ৩ শতাংশ মানুষের এমএফএস অ্যাকাউন্ট ছিল, যা ২০১৯ সালে বেড়ে হয়েছে ৩৫ শতাংশ। আর কভিড-১৯-এর সময়ে এই হার আরও বাড়ছে। বিআইজিডির গবেষণা অনুযায়ী জরিপে অংশ নেওয়া ১৫ শতাংশ পরিবার জানিয়েছিল, সরকারি সহায়তা প্রাপ্তির আশায় তারা এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে নতুন একটি এমএফএস অ্যাকাউন্ট খুলেছে। ২৯ জুন পর্যন্ত এই অ্যাকাউন্টধারীদের এক-তৃতীয়াংশ সরকারের তরফ থেকে কিছু অর্থনৈতিক সাহায্য পেয়েছে।

জরিপে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারকারীদের মধ্যে শুধু ৩০ শতাংশ উত্তরদাতার পরিবারের এমএফএস অ্যাকাউন্ট মালিক ছিলেন নারী সদস্য। তা ছাড়া নারী মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা অনেক কম। গবেষণায় আরও দেখা যায়, ৫০ শতাংশ এমএফএস অ্যাকাউন্ট মালিক এজেন্টদের সাহায্য ছাড়া নিজেদের অ্যাকাউন্ট চালাতে সক্ষম নন, যা এজেন্টদের ওপর অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীদের নির্ভরতার একটি উল্লেখযোগ্য প্রমাণ। গবেষণায় আরও দেখা যায়, ৫০ শতাংশ এমএফএস অ্যাকাউন্ট মালিকরা এজেন্টদের সাহায্য ছাড়া নিজেদের অ্যাকাউন্ট চালাতে অক্ষম।

এটুআই প্রোগ্রামের পলিসি অ্যাডভাইজর আনির চৌধুরী জানান, ক্যাশ আউটের সময় বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করতে পারলে ব্যবহারকারীদের সেবা প্রদান করা আরও সহজ হবে।

সমীক্ষায় জানা যায়, এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীদের মধ্যে এজেন্ট ও ইউডিসি ব্যবসায়ীদের ভূমিকা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিমূলক ধারণা রয়েছে, যার কারণে ব্যবহারকারীরা সঠিক পক্ষের কাছে তাদের সরকারি প্রণোদনাসংক্রান্ত অভিযোগ করতে পারেন না। যদিও এমএফএস প্রদানকারীরা করোনা সময়কালে কোনো লিকুইডিটি সংকট ছাড়াই সেবা প্রদান করতে সক্ষম ছিল। কিন্তু অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার একটি স্পষ্ট অভাব দেখা যায়। কেননা এমএফএস এজেন্ট ও ইউডিসি উদ্যোক্তাদের ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি।

বিকাশের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার মিজানুর রশিদ বলেন, ‘অভিযোগের একটা বড় কারণ হচ্ছে অনেক ব্যবহারকারীই শুরুতে ভুল তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। সেই আইডিগুলো খুঁজে বের করা হয়েছে। তাদের কখনোই বলা হয়নি যে তারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো ক্যাশ ট্রান্সফার পাবেন না। যোগাযোগটা কখনোই পুরোপুরি হয়নি।’

বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মারিয়া মে বলেন, কভিড-১৯-এর সময়ে বাংলাদেশের অনেক পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে এই মোবাইল মানির সহযোগিতা করেছে, তা এই গবেষণায় থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়। স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোতে সহজেই মোবাইলে টাকা পাঠানোর জন্য এমএফএস প্রদানকারীরা অনেক ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা এই গবেষণায় উঠে এসেছে। স্বল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে এজেন্ট নেটওয়ার্ক তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়ার ব্যাপারে জোর দেন তিনি।

সমাপ্ত বক্তব্যে বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন বলেন, ‘কিছু ডিজিটাল উদ্ভাবন বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈষম্যের সৃষ্টি করতে পারে। ফলে দুর্বল জনগোষ্ঠী আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে পারে। অতএব দ্রুতগতির এই ডিজিটাইজেশনকে সামাজিক বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা দরকার।’

বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিনের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে অন্যদের মধ্যে উন্নয়ন সমন্বয়ের ইমেরিটাস ফেলো খন্দকার শাখাওয়াত আলি, সিজিএপির পলিসি লিড গ্রেগ চেন, বিআইজিডির আরপিজি বিভাগের প্রধান মেহনাজ রাব্বানিও আলোচনা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত