তিন্নি ‘হত্যা’

ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রধান আসামি জামিরুল

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২০, ০২:০৯ এএম

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থেকে সদ্য পাস করা উলফাত আরা তিন্নি (২৫) ‘হত্যার’ ঘটনার তিন দিন পার হয়ে গেলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রধান আসামি জামিরুল ইসলাম। এ নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তিন্নির পরিবার। পুলিশ বলছে, জামিরুলকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিন্নির পরিবারকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শৈলকুপার শেখপাড়া বাজারের বাসিন্দা প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলীর মেয়ে তিন্নির ‘ঝুলন্ত’ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তিন্নির মা হালিমা বেগম শুক্রবার রাতে জামিরুলকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নামে নারী নির্যাতন আইনে শৈলকুপা থানায় মামলা করেন। ওই রাতেই পুলিশ জামিরুলের বড় ভাই আমিরুল ইসলাম (৫০), সেজো ভাই নজরুল ইসলাম (৪৫), মামা খলিলুর রহমানের ছেলে শেখ লাবিদ (২৫) ও শেখ তন্ময়কে (২৬) গ্রেপ্তার করে।

এদিকে গতকাল বিকেলে তিন্নির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এখনো মাতম চলছে। মেয়েকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা হালিমা। তিনি বলেন, ‘মেয়েটাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। ওর বাবা মারা যাওয়ার পর আমার পরিবার পুরুষশূন্য। সবে মেয়েটা পড়ালেখা শেষ করল। চাকরি নিয়ে পরিবারের হাল ধরতে চেয়েছিল সে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কী নিয়ে থাকব। অনেক চেষ্টা করেছি ওকে বিয়ে দিতে। কিন্তু রাজি হয়নি। বলত, মা দোয়া কর চাকরি পেয়ে সংসারের যেন হাল ধরতে পারি।’

শৈলকুপা থানার ওসি (তদন্ত) মহসীন আলী জানান, এরই মধ্যে পুলিশ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামি জামিরুলকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, তিন্নির পরিবারকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঘটনার দিন তিন্নির খালাতো ভাই মোখলেছুর রহমান জানিয়েছিলেন, তিন্নির মেজো বোন মিন্নির একই গ্রামের নুরুদ্দীন শেখের ছেলে শেখপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী জামিরুলের সঙ্গে বিয়ে হয়। বনিবনা না হওয়ায় বছরখানেক আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়েছে। বিচ্ছেদের কিছুদিন পরই জামিরুল মিন্নিকে আবার ঘরে নিতে চায়। কিন্তু মিন্নি রাজি হননি। এ কারণে জামিরুল ওই পরিবারের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় পরিবারটি একপ্রকার অসহায় হয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে জামিরুল তিন্নিদের বাড়িতে লোকজন নিয়ে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। দুই ঘণ্টা পর সে আবার ওই বাড়িতে গিয়ে তিন্নির ওপর নির্যাতন চালায়। পরে তাকে হত্যা করে লাশ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত