ওটিস গিবসন একাদশ আজ ব্যাট রেখে বল হাতে নিলেই পারে। রায়ান কুক একাদশের বিপক্ষে দ্বিতীয় দুই দিনের ম্যাচের প্রথম দিনেও ব্যাটিং ছিল তাদের। কয়েক দফা বৃষ্টির ধাক্কা খেয়ে শেষে ৭২ ওভার হয়েছে। তাতে ব্যাটিং প্র্যাকটিস মন্দ হয়নি গিবসন একাদশের। ইমরুল কায়েস (৫৯) ও মাহমুদউল্লাহ (৫৬) ফিফটির দেখা পেয়েছেন। রান করেছেন লিটন কুমার (৪৪), সৌম্য সরকারও (২৬)। মোসাদ্দেক হোসেন লেজের ব্যাটিং নিয়ে ২৯ রানে অপরাজিত।
চলছে জৈব-সুরক্ষার মধ্যে থাকা জাতীয় দলের ক্যাম্পের খেলোয়াড়দের মধ্যকার দুই দিনের ম্যাচ। ব্যাট হাতে অভিজ্ঞ ইমরুল, মাহমুদউল্লাহকে এগিয়ে থাকতে দেখলেও গতকাল মিরপুরের সকালটা কিন্তু তাসকিন আহমেদের ছিল। প্রথম ম্যাচের একমাত্র ইনিংসে ৩ উইকেট নেওয়া বোলার এদিনও দিনের সেরা বোলার। বোলিং ফিগার তার ১১-২-৪২-৩। তাসকিনের গতি আর প্রচণ্ড ভালো করার নেশা দলের ৩২ রানেই সাজঘরে ফেরায় সাইফ হাসান (৭) ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে (২)। দুজনই সিøপে ক্যাচ দিতে বাধ্য হয়েছেন।
এই ধাক্কা ইমরুল ও মাহমুদউল্লাহ বেশ সামলে নেন। ১১২ তখন স্কোর বোর্ডে। এবার ইমরুলকে নিজের বলে ক্যাচ নিয়ে ফেরান তাসকিন। যদিও ইমরুলের মনে হয়েছিল ক্যাচটা ঠিকঠাক নেওয়া হয়নি। ইমরুলের ওই ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৯ আড়াই ঘণ্টার ব্যাটিংয়ে, ৯৩ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায়। টেস্টে ফিরে আসতে হলে যে সুযোগই পাবেন সেটাকে কাজে লাগাতে হবে মাহমুদউল্লাহকে। খাঁটি টেস্ট ব্যাটসম্যানের মতো উইকেটে পড়ে থাকার পণ করেই প্রায় ৩ ঘণ্টা পার করেছেন। ১০২ বলে ফিফটি করেছেন। শেষে ১১৬ বলে ৪ চারে ৫৬ নিয়ে ফিরেছেন সাইফউদ্দিনের একমাত্র শিকার হয়ে।
করোনা বিরতির আগে ফর্মের তুঙ্গে থাকা লিটন প্রথম ম্যাচের একমাত্র ইনিংসে ব্যর্থ ছিলেন। এদিনও বোলাররা দারুণ করছিলেন। সতর্ক লিটন তার মধ্যে বেশ ছন্দ ও গতি নিয়ে ব্যাট করেছেন। পঞ্চম উইকেটে সৌম্যর সঙ্গে ৪৩ রানের জুটি হয়েছিল। সৌম্যকে আউট করে জুটি ভাঙেন তাইজুল। আল-আমিনের শিকার লিটন। শেষটায় উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন আগের ম্যাচের মতো অফস্পিনে দ্রুত ২ উইকেট নিয়ে নেন। তাতে প্রায় শেষে গিয়ে ঠেকে গিবসনদের ইনিংস।
প্রথম ম্যাচে মাত্র ৭ রানে আউট হলেও এই ম্যাচে রানে ফেরা ওপেনার ইমরুল দিনশেষে জাতীয় খেলোয়াড়দের প্রশংসায় ভাসালেন, ‘সাধারণত এ রকম একটা গ্যাপের পর প্রত্যেক খেলোয়াড়ই প্রথম দুইটা বা একটা ম্যাচে একটু ক্যাজুয়াল বা নার্ভাস থাকে। তবে আমার মনে হয় এই বিরতিতে সবাই নিজের কাজটা যথাযথভাবে করেছে। যেজন্য হয়তোবা সমস্যাটা হয়নি।’ ইমরুল আরও বললেন, ‘প্রত্যেক বোলার শতভাগ দিয়ে ছন্দে বল করেছে। মনেই হয়নি যে তারা আসলে ক্রিকেটের বাইরে ছিল। ব্যাটসম্যানরাও খুব চেষ্টা করেছে উইকেটে থেকে রান করার। সহজে রান করতে পারেনি।’
প্রথম ম্যাচে নিজের ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে ইমরুল বলছিলেন, ‘প্রথম ম্যাচটা অনেক দিন পর খেলায় মানিয়ে নিতে একটু সমস্যা হচ্ছিল। তারপরও অনেকে ভালো খেলেছে কিন্তু আমি অত ভালো খেলতে পারিনি। এই ম্যাচটায় অনেক বেশি মনোযোগ ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাটিং যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে করতে পেরেছি।’
করোনার কারণে অনেক সময় হারিয়ে গেছে। তারপরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখন মাঠে খেলা আনতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। সামনে তিন দলের টুর্নামেন্টের পর করপোরেট ক্রিকেট লিগ। এরপর ঢাকা লিগ। এসব দেখে ইমরুল বলেন, ‘অনেক দিন পর খেলা শুরু হয়েছে। আমাদের বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এটা অবশ্যই বড় একটা স্বস্তির বিষয়। সামনে কিছু টুর্নামেন্ট আমাদের জন্য হচ্ছে যেগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওটিস গিবসন একাদশ ১ম ইনিংস : ৭২ ওভারে ২৪৮/৮ (সাইফ ৭, ইমরুল ৬০, শান্ত ২ , মাহমুদউল্লাহ ৫৬, লিটন ৪৪ , সৌম্য ২৬, মোসাদ্দেক ২৯*, নাঈম ৮, ইবাদত ০, রুবেল ০*; তাসকিন ৩/৪৪, সাইফুদ্দিন ১/৪১, খালেদ ০/৩১ , আল-আমিন ১/৩৬, তাইজুল ১/৭৬, মিঠুন ২/১০)
