রিফাত হত্যা মামলা

অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির যুক্তিতর্ক শুরু

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২০, ০২:১৮ এএম

বরগুনার আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) হত্যা মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনার শিশু আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান যুক্তিতর্ক উপস্থান করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। এক ঘণ্টা রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত আদালত মুলতবি করেন বিচারক মো. হাফিজুর রহমান।

সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্ত বয়স্ক ১৪ আসামির যুক্তিতর্ক শুরু হয় শিশু আদালতে। এর আগে আদালতে হাজির হয় এই মামলায় জামিনে থাকা অপ্রাপ্তবয়স্ক ৮ আসামি। এ ছাড়া পুলিশ ভ্যানে বরগুনা জেলা কারাগারে থাকা ৬ অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিকেও আদালতে হাজির করা হয়। এরপর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে আদালতের বিচারকের কাছে রাষ্ট্রপক্ষ ৭ আসামির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির পর্যালোচনামূলক বক্তব্য তুলে ধরে।

রিফাত হত্যা মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলো মো. রাশিদুল হাসান রিশান ওরফে রিশান ফরাজী (১৭), মো. রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার (১৫), মো. আবু আবদুল্লাহ ওরফে রায়হান (১৬), মো. ওলিউল্লাহ্ ওরফে অলি (১৬), জয় চন্দ্র সরকার ওরফে চন্দন (১৭), মো. নাইম (১৭), মো. তানভীর হোসেন (১৭), মো. নাজমুল হাসান (১৪), মো. রাকিবুল হাসান নিয়ামত (১৫), মো. সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ ওরফে মহিবুল্লাহ (১৭), মারুফ মল্লিক (১৭), প্রিন্স মোল্লা (১৫), রাতুল শিকদার জয় (১৬) ও মো. আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ (১৬)।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, রিফাত হত্যা মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিচারকাজ ইতিমধ্যে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সম্পন্ন হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। এ মামলায় আদালতে ৭৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে।

অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রত্যাশা : রিফাত হত্যা মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের মতো মামলার ১৪ অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রত্যাশা করছেন বরগুনাবাসীর অনেকেই।

নিহত রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমার ছেলে হত্যার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের রায় ঘোষণা হয়েছে। আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি। সব আসামির সাজা হলে আমার ছেলের আত্মা একটু হলেও শান্তি পাবে।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে আদালত যেমন দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনি দৃষ্টান্তমূলক রায় দেবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।’

বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক মো. হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, ‘অপরাধী সে যে বয়সেরই হোক না কেন, তাদের যাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হয় সেই প্রত্যাশা আমাদের। কারণ আর কোনো তরুণ যাতে এই আসামিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিপথগামী না হয় সেজন্য এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা আমাদের সবার।’

গত বছরের ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে কিশোর গ্যাং বন্ড বাহিনী প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন বিকেলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। ওই হত্যাকাণ্ড সারা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ঘটনার পরদিন রিফাতের বাবা মো. আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। রিফাত হত্যাকাণ্ডের দুই মাস ছয় দিন পর গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে দুটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এদের মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিন্নিসহ ৬ প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত