নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা ও বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল বেঞ্চ থেকে রুলসহ এসব আদেশ আসে। আদেশে নির্যাতনের ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দেয় আদালত। পাশাপাশি বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে ভিডিওটি পেনড্রাইভ বা সিডিতে সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া এই ঘটনায় করা মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার নারী ও তার পরিবারকে সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপারকে (এসপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ওই নারীর নিরাপত্তা, জবানবন্দি নেওয়া, দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ সার্বিক ঘটনায় স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো অবহেলা আছে কি না, তা অনুসন্ধানে নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (এডিসি) নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি করে দিয়েছে হাইকোর্ট। জেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা ও চৌমুহনী সরকারি এসএ কলেজের অধ্যক্ষকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তা ছাড়া নোয়াখালীর জেলা প্রশাসককে (ডিসি) ওই নারী ও তার পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে বলছে আদালত।
এ ঘটনায় করা ফৌজদারি মামলার সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বেগমগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ২৯ অক্টোবর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন রাখা হয়েছে।
বেগমগঞ্জের ওই ঘটনায় বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন গতকাল আদালতের কার্যক্রমের শুরুতে বেঞ্চের নজরে আনেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই (জহিরুল ইসলাম) খান পান্নাসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী। দুপুরে শুনানি শেষে এসব আদেশ আসে। শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন, সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট এ এম জামিউল হক ফয়সাল, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন। পরে জামিউল হক ফয়সাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, আদেশের পাশাপাশি এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট।
আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব; বিটিআরসির চেয়ারম্যান, নোয়াখালীর ডিসি, বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বেগমগঞ্জ থানার ওসিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে ওই গৃহবধূর ঘরে ঢুকে তার স্বামীকে পাশের কক্ষে বেঁধে রেখে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানি করে স্থানীয় বাদল ও তার সহযোগীরা। ওই সময় বাধা দিলে তারা তাকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে মোবাইলে ভিডিও চিত্র ধারণ করে।
ওই নারীকে নির্যাতনের ঘটনার ৩২ দিন পর গত রবিবার দুপুরে ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সারা দেশে নিন্দার ঝড় ওঠে। এরপর ওই নারীকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় স্থানীয় পুলিশ। এ ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে বেগমগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন ওই গৃহবধূ। ইতিমধ্যে দেলোয়ার, রহিম, রহমতউল্যাহ ও বাদল নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
