যুবলীগ নেতাকে চোখ বেঁধে নির্যাতন

ফরিদপুরে ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২০, ০৪:১৯ এএম

ফরিদপুরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে যুবলীগের এক নেতাকে চোখ বেঁধে নির্যাতন করার ঘটনায় দুই ওসিসহ সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ফরিদপুরের এক নম্বর আমলি আদালতে এ মামলাটি করেন যুবলীগ নেতা শেখ আরাফাত হোসেন। বিচারিক হাকিম মো. ফারুক হোসেন মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুরকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে আগামী ৭ জানুয়ারি।

শেখ আরাফাত হোসেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের শেখপুরা গ্রামের শেখ মোশাররফ হোসেনের ছেলে। তিনি ভাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর ডিবি কার্যালয়ে তাকে নির্যাতনের একটি ভিডিও নিজের ফেইসবুক আইডিতে আপলোড করেন আরাফাত। এ ঘটনার পর বিষয়টি সারা দেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. কামালউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আদালত আরাফাতের দায়ের করা মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে। এ মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৭ জানুয়ারি।

তিনি জানান, মামলায় ফরিদপুর ডিবি পুলিশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহাদুজ্জামান আহাদ (৫৫), ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুর রহমান (৪৯), ভাঙ্গা থানার চার উপপরিদর্শক (এসআই) এবাদুল হক মোল্লা (৩৫), আনিসুর রহমান (৪০), শামসুল হক সুমন (৩৮) ও রেজওয়ান মামুন (৩০) এবং গোয়েন্দা পুলিশের এসআই শাহীনকে বিবাদী করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, গত ৫ জানুয়ারি রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কাউলিবেড়া বাজার এলাকা থেকে ৫-৬ জন পুলিশ সদস্য একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে এসে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই শেখ আরাফাতকে জোরপূর্বক গাড়িতে উঠিয়ে নেন। গাড়িতে উঠানোর পর পুলিশ সদস্যরা তাকে মারপিট করতে থাকেন এবং তাকে নিক্সন চৌধুরীর (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ মুজিবর রহমান চৌধুরী) রাজনীতি করার কথা বলেন। তা না করা হলে তাকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেন। পরে পুখুরিয়া এসে তাকে গোয়েন্দা পুলিশের গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। ডিবির গাড়িতে তুলে দিয়ে এসআই এবাদুল ভাঙ্গা থানার ওসিকে মুঠোফোনে বলেন, ‘স্যার আরাফাতকে গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আহাদুজ্জামানের হাতে বুঝাইয়া দিয়েছি।’

এজাহারে আরও বলা হয়, পরে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় গোয়েন্দা পুলিশের দপ্তরে নিয়ে আসে। এরপর সেখানে রাত ১১টার দিকে তাকে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। ওই রাতে কয়েক দফা তাকে পেটানো হয়। জীবন রক্ষার জন্য আরাফাত হাত জোড় করে মিনতি জানালে ওসি ডিবি বলেন, ‘আমি তোগে লোক না। আমি নিক্সন চৌধুরীর লোক।’

এদিকে এ ঘটনার পরপরই ফরিদপুর ডিবি পুলিশের সাবেক ওসি আহাদুজ্জামানকে সদরপুরের চন্দ্রপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ থেকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। তবে বর্তমানে আহাদুজ্জামান রাজবাড়ী বদলি হয়েছেন।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, আদালত এ বিষয়টি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে। পিবিআই তাদের মতো করে তদন্ত করবে। পাশাপাশি আমরাও বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত