মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় মামাতো ভাইয়ের স্ত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মশিউর রহমান (৪৫) নামে এক কৃষককে স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার শ্রীকোল ইউনিয়নের দরিবিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মশিউর রহমানের মামাতো ভাই ডলার মিয়ার স্ত্রীকে দীর্ঘদিন উত্ত্যক্ত করে আসছে গ্রামের হাশেম মাস্টারের অনুসারীরা। এ নিয়ে সম্প্রতি হাশেম মাস্টারের অনুসারী মুক্তার হোসেনের সঙ্গে ডলারের বাগ্বিতন্ডা হয়। পরে গত সোমবার মশিউরসহ অন্যরা মুক্তারের বাড়িতে গিয়ে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ জানালে উত্তেজনা দেখা দেয়।
গতকাল সকালে মশিউর রহমানকে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষের আসলাম, জামান, তুহিন, আয়ুব, জাহাঙ্গীর, লিমনসহ ১০-১২ জন। স্বামীকে মারার খবর পেয়ে স্ত্রী লতিফা বেগম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি চেষ্টা করেও স্বামীকে রক্ষা করতে পারেননি। পরে স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মশিউরের মৃত্যু হয়। এরপর বিক্ষুব্ধরা হামলাকারীদের ১০-১২ বাড়ি ভাঙচুর করে।
নিহতের স্ত্রী লতিফা বেগম জানান, আধিপত্য নিয়ে শ্রীকোল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ সংগ্রাম এবং একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান কুতুবুল্লাহ কুটির অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। এ দুই নেতার ইন্ধনে দরিবিলা গ্রামে দুটি সামাজিক দল সৃষ্টি হয়েছে, যার একপক্ষে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য নাজির মিয়া; অন্যপক্ষে নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগের সদস্য হাশেম আলী মাস্টার। তার স্বামী মশিউর নাজির মিয়ার লোক। বিগত ইউপি নির্বাচনসহ নানা বিরোধের জের ধরে হাশেম আলীর লোকজন নাজির মিয়ার লোকদের হয়রানি করে আসছে। সম্প্রতি ডলারের স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করা হলে সোমবার তার প্রতিবাদ জানান মশিউর। প্রতিশোধ নিতে হাশেমের লোকজন তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
মাগুরা সদর হাসপাতাল মর্গে লাশের পাশে কান্নারত স্ত্রী বলেন, ‘ছেলেমেয়েরা চিংড়ি মাছ খেতে চাওয়ায় সকালে বাজার থেকে মাছ কিনে সে বাড়ি দিয়ে যায়। আমি কি জানতাম, এই আসাই তার শেষ আসা! ওরা মানুষ না পশু। আমার চোখের সামনে তারে কুপায়ে কুপায়ে মারল। আমি কত কাকুতি-মিনতি করলাম, শুনলো না। না মরা পর্যন্ত আমার স্বামীর বুহির পরে বসে তারা কুপাইছে। আমি ওগেরে ফাঁসি চাই।’
শ্রীপুর থানার ওসি আলী আহমেদ মাসুদ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
