নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলো ঘটনার মূল হোতা দেলোয়ারের সহযোগী সোহাগ, কালাম ও নূর হোসেন রাসেল। এদের মধ্যে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে একলাশপুর থেকে সোহাগ ও রাসেলকে আটক করে নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। আর গতকাল ভোরে কালামকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে আটক করে র্যাব-১১ সদস্যরা। এ নিয়ে ওই ঘটনায় পাঁচ এজাহারভুক্ত আসামিসহ মোট নয়জনকে আটক করা হলো।
এদিকে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও তার ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার আরও তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
র্যাব-১১ অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম জানান, নোয়াখালীতে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া মামলার অন্যতম আসামি কালামকে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দাউদকান্দি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে সে আত্মগোপনে ছিল।
র্যাব অধিনায়ক বলেন, ‘কালাম ওই গৃহবধূকে নির্যাতনের দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং কালাম দেলোয়ার বাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে।’
অন্যদিকে সোহাগ ও রাসেলকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়ে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে একলাশপুর থেকে সোহাগ ও নূর হোসেন রাসেলকে আটক করে। এ ছাড়া গৃহবধূকে নির্যাতন মামলার অন্য আসামিদেরও আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে গত রবিবার ৯ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং আইসিটি আইনে দুটি মামলা করেন। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার ধর্ষণের আরেকটি মামলা করেন।
মঙ্গলবার দুজনকে আটকের আগে গত রবিবার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের খালপাড় এলাকার রহিম (২০) ও একই এলাকার রহমত উল্যাহকে (৪১) গ্রেপ্তার করে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ। পরদিন সোমবার মামলার প্রধান আসামি বাদলকে ঢাকা থেকে এবং দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারকে অস্ত্রসহ নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। আর সোমবার রাতে একলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ (৪৮) ও সাজু (২১) গ্রেপ্তার হয়।
তিন আসামি রিমান্ডে : নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও তার ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার আরও তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল বুধবার নোয়াখালীর ৩ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাশফিকুল হক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাদের মধ্যে নির্যাতন ও ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে দেওয়ার দুই মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি মাঈন উদ্দিন ওরফে সাজুর তিন দিন করে ছয় দিন এবং শুধু নির্যাতন মামলায় আনোয়ার হোসেন ওরফে সোহাগ ও নূর হোসেন ওরফে রাসেলের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। মাঈন উদ্দিন ছাড়া বাকি দুজন আসামি এজাহারে উল্লিখিত অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে পরে তদন্তে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গুলজার আহমেদ জুয়েল জানান, গতকাল দুপুরে তিন আসামি মাঈন উদ্দিন সাজু, আনোয়ার হোসেন ওরফে সোহাগ ও নূর হোসেন ওরফে রাসেলকে আদালতে হাজির করে প্রতিটি মামলায় প্রত্যেক আসামিকে সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়।
নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এ পর্যন্ত আট আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাত আসামির বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বেগমগঞ্জে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে একদল যুবক ও কিশোর। ছেলের বয়সী ওইসব কিশোর-যুবকের পায়ে ধরেও রেহাই পাননি ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী। ভয়ে ৩২ দিন আগের ঘটনাটি কাউকে জানাতেও পারেননি নির্যাতিতা কিংবা তার স্বজনরা। গত ২ সেপ্টেম্বর রাতের ওই নির্যাতনের ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র গত রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা জানাজানি হয়।
